বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতাভুক্ত হওয়ার জন্য মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার পর, এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম (ইপিএস)-এর যোগ্যতার নিয়মাবলি স্পষ্ট করল এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন বা ইপিএফও।
বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য সারা দেশে চালু রয়েছে এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকা ইপিএফও এর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। সমাজমাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে সংস্থাটি ব্যাখ্যা করেছে, এক জন কর্মীর মাসিক বেতন এবং পেনশন প্রকল্পের পূর্ববর্তী সদস্যপদ কী ভাবে তাঁর যোগ্যতার উপর প্রভাব ফেলে। যে সব কর্মী জানতে চান যে তাঁরা ইপিএস-এর আওতাভুক্ত হবেন কি না এবং তাঁদের বেতন থেকে পেনশনের জন্য অর্থ কাটা হবে কি না, তাঁদের জন্য এই বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইপিএফের ক্ষেত্রে মাসিক আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় মোদী প্রশাসন। সংশোধিত বেতনসীমার ফলে ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী বাধ্যতামূলক ইপিএফও-তে আওতাভুক্ত হচ্ছেন। ইপিএফও-র তথ্য অনুযায়ী, যে সব কর্মীর মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা বা তার কম, তাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্যতার শর্তাবলি সাপেক্ষে ইপিএস-এরও আওতাভুক্ত হতে পারেন।
ইপিএফও-র শেয়ার করা পোস্টে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সংশোধিত বেতনসীমার মধ্যে যোগ্য কর্মীদের জন্য পেনশন সদস্যপদ বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী, তার জন্য প্রযোজ্য টাকা কর্মীদের বেতন থেকেই মাসে মাসে কাটা হয়। তবে পোস্ট অনুযায়ী, যে সব কর্মীর মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকার বেশি এবং যাঁরা আগে ইপিএস সদস্য ছিলেন না, তাঁরা নতুন সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন। এর অর্থ হল, সংশোধিত বেতনসীমা মানেই যে প্রত্যেক কর্মী স্বয়ংক্রিয় ভাবে পেনশনের সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন, তেমন নয়। এ ক্ষেত্রে কর্মীর পূর্ববর্তী সদস্যপদ এবং প্রযোজ্য ইপিএস নিয়মাবলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন:
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের বাধ্যতামূলক ইপিএফও আওতাভুক্তির জন্য মাসিক বেতনসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। যোগ্য কর্মীরা তিনটি প্রকল্পের অধীনে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাবেন— এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ), এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম (ইপিএস) এবং এমপ্লয়িজ় ডিপোজ়িট লিঙ্কড ইনসিয়োর্যান্স (ইডিএলআই)। কর্মী ও নিয়োগকর্তার অবদানের মাধ্যমে কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে ইপিএফ। ইপিএস যোগ্য সদস্যদের পেনশনের সুবিধা প্রদান করে। অন্য দিকে ইডিএলআই যোগ্য কর্মীদের জীবন বিমার সুবিধা দেয়।
বেতনসীমা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হল আরও বেশি সংখ্যক কর্মীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, যাঁরা আগে বেতনসীমা অতিক্রম করার কারণে আওতার বাইরে ছিলেন। এই পরিবর্তনের ফলে পেনশনযোগ্য বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইপিএস-এ নিয়োগকর্তার মাসিক সর্বোচ্চ অবদানের পরিমাণও বেড়ে যাবে। পেনশনযোগ্য বেতনের সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার ফলে, ৮.৩৩ শতাংশ হারে নিয়োগকর্তার মাসিক পেনশন অবদানের পরিমাণ ১,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২,০৮৩ টাকা হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা প্রত্যেক কর্মীই প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ২,০৮৩ টাকার ইপিএস অবদান পাবেন। প্রকৃত অবদানের পরিমাণ নির্ভর করে যোগ্যতা, পেনশনযোগ্য বেতন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়মের উপর।
এটিও বোঝা জরুরি যে, ইপিএস-এ নিয়োগকর্তার অবদান আসলে তাঁর সামগ্রিক প্রভিডেন্ট ফান্ড অবদানেরই একটি অংশ। এটি কর্মীর বেতন থেকে কেটে নেওয়া কোনও অতিরিক্ত অর্থ নয়। কর্মীদের ইপিএফও পরামর্শ দিয়েছে, যদি তাঁদের মনে হয় নির্ধারিত টাকা কাটা হয়নি, তবে তাঁরা যেন প্রথমেই তাঁদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেন। নিয়োগকর্তা যদি কোনও পদক্ষেপ না করেন, তবে কর্মীরা ইপিএফও-র কাছে অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ জানানোর সময় বেতনের বিবরণ এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সহজ কথায়, পেনশনের সুবিধার জন্য যোগ্য কি না তা ধরে নেওয়ার আগে কর্মীদের নিজেদের যোগ্যতা এবং আগের সদস্যপদের অবস্থা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
