রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় সড়কের দুই ধারের পতিত জমিতে বিনা চাষে তিল আবাদ করে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকেরা। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা-পাকা সড়কের দুই পাশে তিলের ক্ষেত এখন নজর কাড়ছে। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও তিলের বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার ৫ নম্বর মদনখালী, ৬ নম্বর টুকুরিয়া ও ৭ নম্বর বড় আলমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সড়কের দুই পাশে নিজ নিজ জমির সীমানার পতিত অংশে তিল চাষ করেছেন কৃষকেরা। বিনা চাষে এসব জমিতে তিল আবাদ করে তাঁরা লাভজনক কৃষির দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। চলতি মৌসুমেও ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঠাকুরদাস লক্ষ্মীপুর, উল্লাগাড়ী, কাশিপুর, বাবনপুর, জাফরপাড়া, কাদিরাবাদ, হাসারপাড়া, খয়েরবাড়ি ও বড় ফলিয়া গ্রামের সড়কের দুই পাশের তিলক্ষেত বেশ দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। তিলগাছগুলো ফুলে-ফলে ভরে উঠেছে।
উল্লাগাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ মণ্ডল বলেন, “পাকা রাস্তার দুই পাশে আমার চার বিঘা জমির সীমানায় প্রতিবছরের মতো এবারও তিল চাষ করেছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তিলের দামও অনেক বেশি।”
বাবনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কাঁচা-পাকা রাস্তার দুই পাশে আমার তিন বিঘা জমির সীমানায় তিল চাষ করেছি। তিল চাষে খরচ নেই বললেই চলে। রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম, সার ও ওষুধের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। এমনকি গরু-ছাগলও তিলগাছ খায় না। তাই আবাদ ভালো হয় এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। প্রতিবছর পাঁচ থেকে ছয় মণ তিল পেয়ে থাকি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, “তিল একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। সড়কের পাশে যাঁরা তিল চাষ করছেন, তাঁদের অন্যান্য পতিত জমিতেও তিল আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তিল চাষে খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় আমরা কৃষকদের এ ফসল চাষে উৎসাহিত করছি।”
তিনি আরও জানান, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও তিল চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পতিত জমির সঠিক ব্যবহার, কৃষকদের আগ্রহ এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পীরগঞ্জে তিলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে পতিত জমি কাজে লাগানোর পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি আয় অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
The post পীরগঞ্জে সড়কের দুই ধারে বিনা চাষে তিল আবাদ, ফলনে হাসি কৃষকের মুখে appeared first on ভোরের চেতনা.
