Published on
:
2 min read
ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইটে হামলার ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা ও ফ্লাইট হাইজ্যাকের ঘটনায় অভিযুক্ত ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে চলছে জেরা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এ বার তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সূত্রে মালদ্বীপের দুই পাইলটকে আটক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তের সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটে ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে নতুন মোড়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাঝ আকাশে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর কুড়ুল দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে ফ্লাইটের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ফ্লাইটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নীচে নেমে আসতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। এ বার অভিযুক্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগে মালদ্বীপের দুই পাইলটকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।
কী কারণে আটক দুই সহ-পাইলট?
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর মালদ্বীপের দুই পাইলটকে আটক করেছে UAE-র তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের সঙ্গে হামাম আল-হাম্মামির ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিপোর্টে দাবি, তাঁরা একই সংস্থায় কাজ করতেন এবং একসঙ্গে ডিউটি করতেন। এমনকী তাঁরা একই জায়গায় থাকতেন বলেও দাবি।
আটক দুই পাইলটের সঙ্গে হাম্মামির যোগাযোগ কতটা গভীর তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের ব্যক্তিগত চ্যাটও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আটক পাইলটদের কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কোনও চরমপন্থী মতাদর্শের ইঙ্গিত ছিল কি না, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে, মালদ্বীপের দুই সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে ফ্লাইট হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়। তদন্তের স্বার্থেই তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
চরমপন্থী যোগের সন্দেহ, তদন্তে একাধিক দেশ
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল FZ1073। ফ্লাইটে হওয়া কাণ্ডকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে UAE। তবে অভিযুক্ত একাই এই কাজ করেছিলেন, নাকি তাঁর সঙ্গে অন্য কারও যোগাযোগ ছিল, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামাম আল-হাম্মামির অতীত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি, ওমানে কাজ করার সময়েই ফ্লাইংয়ে তাঁকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁর চরমপন্থী মতাদর্শের কারণেই এই পদক্ষেপ। অভিযুক্তের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটি এবং অতীতের পেশাগত কাজের নথিও এখন তদন্তের আওতায়।
