Published on
:
2 min read
এই সময়: আন্দোলন থামাতে হস্টেল ও ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেসও। পড়ুয়াদের রাতারাতি ক্যাম্পাস ছাড়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা ডেডলাইন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে পিছু হটার বদলে নিজেদের উদ্যোগেই খাবারের ব্যবস্থা করতে কোমর বাঁধছেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়ারা। তাঁরা মানলেন না ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইনও। চাঁদা তুলে ক্যাম্পাসে কমিউনিটি কিচেন তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। পড়ুয়াদের বক্তব্য, খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে, কিন্তু দাবি আদায়ের লড়াই থেকে সরার প্রশ্ন নেই।
শুক্রবার পড়ুয়াদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হস্টেল ও ক্যাম্পাস খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। পুজোর সময়ে এই নির্দেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সঙ্কট। কারণ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতায় পড়তে আসা অনেক পড়ুয়ার পক্ষে এত কম সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাঁদের মধ্যে আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়ারাও রয়েছেন। কোভিড অতিমারীর সময়েও যখন ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তখন এ বার কেন এমন সিদ্ধান্ত, সেই প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই নির্দেশের ফলে পড়ুয়াদের বাসস্থান ও খাবারের মতো মৌলিক প্রয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মেস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শনিবার বহু পড়ুয়াকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে রান্নার ব্যবস্থা করতে চাইছেন তাঁরা। কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে একসঙ্গে রান্না করে খাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পড়ুয়াদের বক্তব্য, এই উদ্যোগ নিছকই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য। এর সঙ্গে আন্দোলনের কোনও সমঝোতা নেই।
প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া সুদীপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘ক্যাম্পাস খালি করার নির্দেশ দেওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি থাকা-খাওয়ার মতো মৌলিক বিষয়গুলি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সে কারণে ক্যাম্পাসের মধ্যে কমিউনিটি কিচেন তৈরি করব আমরা। কিন্তু আন্দোলন থেকে কোনও ভাবেই পিছু হটব না।’
আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পঠনপাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পড়ুয়াদের অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপাচার্যের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে সরব তাঁরা। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পড়ুয়াদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।