লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
সার সংকট নিরসনের লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সার ডিলার নিয়োগ প্রদানের জন্য গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ আবেদন করেন। কিন্তু গত ৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক যাচাই-বাছাই কমিটির দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২ জন ব্যক্তিকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। পরে সেই নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়া ব্যক্তিগণ নিয়োগে অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন।
উপজেলার গোতামারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আবু সায়েম বুলেট, সার ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও ভেলাগুড়ী ইউনিয়নের আব্দুল হকসহ অনেকে বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, ক্যাসিনো ব্যবসায়ী, দাদন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই নিয়োগে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার মজিবুল ইসলাম মজু, নওদাবাস ইউনিয়নের সার ডিলার একরামুল ইসলাম একরাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন মিয়া বলেন, যাচাই-বাছাই করে ৩৬ জনকে সুপারিশ করে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েকটি ইউনিয়নের নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের নিয়োগ স্থগিত করে পুনঃতদন্ত করলে নিয়োগ বাণিজ্যের রহস্য বের হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
