ঢাকার ধামরাইয়ের চৌহাট এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে মাহফুজুর রহমান ইমন (২৮) নামে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ৭ হত্যা মামলাসহ ৩৩ মামলার আসামি সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসা চৌহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোকসেদ ও তার অনুসারীরা তার ওপর হামলা করেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্তের স্ত্রীর বর্তমান চেয়ারম্যান পারভীন হাসান প্রীতির ভাষ্য, মাদক সংক্রান্ত কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান ইমন ধামরাইয়ের চৌহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মোকসেদ একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি সেনা সদস্যকে নৃশংস হত্যাসহ ৭টি হত্যা মামলা ও মোট ৩৩টি মামলার আসামি। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, উভয়পক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালের দিকে ব্যক্তিগত কাজে ভাড়া করা প্রাইভেট কারে চৌহাট থেকে ধামরাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন মাহফুজুর রহমান। বালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ৮-১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় ২০-২৫ জন ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে জিম্মি করে তাকে বাজারের আরেক পাশে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি মোকসেদকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করে দুষ্কৃতিকারীরা। এই অভিযোগেই তার ওপর হামলা করা হলে তিনি আহত হন। পরে মাহফুজুর রহমানকে ধামরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর ভাড়া করা প্রাইভেট কারটি আটক করে ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, গাড়ি থেকে ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘‘আমি ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। গাড়ি নিয়ে বালিয়া স্ট্যান্ডে পৌঁছালে হঠাৎ ১০টি মোটরসাইকেল এসে আমার প্রাইভেট কার ঘেরাও করে। তারা বলে, ‘চেয়ারম্যান ডাকে।’ আমি বলি, আমার তাড়া আছে। কিন্তু তারা জবরদস্তি করছিল। আমি চিন্তা করলাম, গাড়ির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে ঝামেলা হবে। তারা চাপ সৃষ্টি করছিল। পরে তারা আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।’’
‘‘আমি যাওয়ার পর মোকসেদ বলে, ‘তুই আমাকে প্রাইভেট কার দিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিস, পরিকল্পিতভাবে।’ এরপরই নিজের অনুসারীদের মোকসেদ ‘কই, এখনও মারস নাই?’ বলে হামলার নির্দেশ দেয়। এ সময় আমি গাড়ির দরজা খুলতেই অতর্কিতভাবে ২৫ থেকে ৩০ জন আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চেয়ারম্যান নিজে এবং তার ছেলেও আমাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে। আমার শরীরে কাটা-ছেঁড়ার চিহ্নও স্পষ্ট রয়েছে,’’ যোগ করেন মাহফুজুর রহমান।
গাড়ি থেকে গাঁজা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি জানাজায় যোগ দিতে যাচ্ছিলাম। আমার এলাকায় খোঁজ নেন। আমার বিষয়ে এমন কিছু পাওয়া যায় কিনা। আমি নিজে মাদকবিরোধী প্রতিবাদ করি। তারা আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। গাড়ি তল্লাশি করেও কিছু পায়নি। তারা নিজেরাই রেখে কিছু দাবি করতে পারে। কারণ, মোকসেদ এলাকায় ফিরে গত কিছু দিন ধরেই কয়েকজনকে মাদকসহ আটক করেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। আর মাদক ধ্বংসও করা হয়নি। জমিয়ে রাখা সেই মাদক দিয়েই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে।’’
এ সময় মাহফুজুর রহমান মোকসেদের বিরুদ্ধে সাতটি হত্যা মামলাসহ ৩৩টি মামলা রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘আপনাদের সঙ্গে বসলে এসবের তথ্যপ্রমাণ দেখাব।’’
চৌহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পারভীন হাসান প্রীতি রফিকুল ইসলাম মোকসেদের সহধর্মিণী। তিনি বলেন, ‘‘গাড়ির মধ্যে মাদক নিয়ে পালানোর সময় তাকে (মাহফুজুর রহমান) স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান রাস্তার পাশে ছিলেন, তখন তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। সে পালিয়ে যায়। তবে চালককে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।’’
তবে এসব বিষয়ে জানতে রফিকুল ইসলাম মোকসেদকে একাধিকবার মুঠো ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে ধামরাই থানার কাওয়ালিপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইলিয়াস বলেন, “চৌহাটে গাড়ি ক্রসিংয়ের সময় ঝামেলা হয়েছিল। পরে আমাদের ডাকা হয়। টিমের সবাইকে নিয়ে সেখানে গেলে জানতে পারি, গাড়িকে সাইড দেওয়া নিয়ে সমস্যা। যে গাড়িতে ছিলেন, তার নাম ইমন। আর চালকের নাম রায়হান। ঘটনাটি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটেছে। গাড়িতে মাদক থাকতে পারে বলে সন্দেহ ছিল। পরে গাড়িতে ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
