বিবিসির বিশ্লেষণ: চতুর্মুখী চাপে দিশেহারা ট্রাম্প
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে যে নির্বাচন, তার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। এমন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মনোযোগ বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণে সেই উদ্যোগই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জ্বালানির দাম কমিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ প্রশমিত করার যে চেষ্টা ট্রাম্প করছেন, তা একের পর এক আন্তর্জাতিক সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে তার জন্য।
বিতর্কের সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে। ওই দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর আওতায় আগামী কয়েক মাসে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়। ট্রাম্পের দাবি, এ উদ্যোগের ফলে মার্কিন নাগরিকেরা কম দামে জ্বালানি পাবেন। কিন্তু বাস্তবতা এতটা সরল নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপ্রধান রাজ্যগুলোতে ডিজেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিযন্ত্র চালানো থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারে পরিবহন-সব ক্ষেত্রেই এই জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষক ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ইরান যুদ্ধকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অনেক মার্কিন ভোটার।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা কমছে। ইরান যুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশের অর্থনীতি সামলানোর ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা নিয়েও বাড়ছে অসন্তোষ।
ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য কম দামে জ্বালানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রুশ ডিজেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই রাজনৈতিক বিরোধের জন্ম দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, কিন্তু হামলা থামেনি
ডিজেল চুক্তির ঘোষণার দুই দিন পর ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নতুন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির কথা প্রচার করেন। তার বক্তব্যে মনে হচ্ছিল, শীত মৌসুমে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এ ধরনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেন এ উদ্যোগ মেনে চলবে। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। এর মধ্যেই রোববার রাতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালায় রুশ বাহিনী।
সোমবার জেলেনস্কি ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে পুতিন ট্রুথ সোশ্যাল পড়েন না।’ তিনি আরও বলেন, এই শীতে রাশিয়া যদি জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত না হয়, তাহলে ইউক্রেনও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার সঙ্গে জেলেনস্কির সম্পর্ক বরাবরই টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো তার জন্য সহজ হবে। কিন্তু যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় কখনো রাশিয়া, কখনো ইউক্রেনকে দায়ী করছেন তিনি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জেলেনস্কিই ট্রাম্পের সমালোচনার প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছেন। রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এমন মন্তব্যও করেন যে ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। ফাইন্যানশিয়াল টাইমস ও সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ না হলে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের বক্তব্য, জেলেনস্কিকে এবার অবশ্যই হামলা বন্ধ করতে হবে।
স্বাধীন থিঙ্কট্যাংক প্যানজিয়া পলিসির প্রতিষ্ঠাতা টেরি হেইনস বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আচরণের একটি ধারাবাহিকতা এখানে দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, যারা প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা অনুযায়ী, তার নির্ধারিত সময়ে ও পদ্ধতিতে কাজ করেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নেয়ার নজির ট্রাম্পের রয়েছে।
চুক্তির আগেই সাফল্য ঘোষণা?
কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সেটিকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা ট্রাম্পের নতুন নয়। রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে তার ঘোষণা সেই পুরোনো কৌশলেরই প্রতিফলন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি কিংবা বড় ধরনের শান্তি চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার আগেই সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। কখনো এটি কূটনীতিতে চাপ সৃষ্টির কৌশল, কখনো দ্রুত ফল পাওয়ার অধৈর্য প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু কূটনীতির বাস্তবতা হলো, একটি ঘোষণা আর কার্যকর চুক্তি এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি, শর্ত বাস্তবায়ন এবং মাঠপর্যায়ে সংঘাত বন্ধ হওয়ার বিষয়গুলো নিশ্চিত না হলে ঘোষণার সুফল পাওয়া কঠিন। এবারও সেই ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আসতে দেরি হয়নি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচকদের একজন হিসেবে পরিচিত, জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। তবে রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল আমদানির উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি।
কার্নির মতে, এ ধরনের চুক্তি ইউরোপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থের জোগান দেয়ার ঝুঁকিও রয়েছে এতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চারজন সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। গত রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিনেটররা বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধের অর্থায়ন ঠেকাতে ২০২২ সালে কংগ্রেস রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল। তাদের অভিযোগ, রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল আমদানির অনুমতি দিয়ে ট্রাম্প সেই আইনের সরাসরি বিরোধিতা করছেন। অর্থাৎ, জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে নেয়া একটি সিদ্ধান্ত এখন ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিজেলের দাম কমছে না
ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হতে পারে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির খবরের পরও ডিজেলের দামে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। দাম রেকর্ড উচ্চতা থেকে কিছুটা কমলেও এখনো প্রতি গ্যালন ছয় ডলারের ওপরে রয়েছে।
এ পরিস্থিতি ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, ভোটারদের কাছে জ্বালানির দাম একটি সরাসরি অর্থনৈতিক সমস্যা। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে তার দায় শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন প্রশাসনের ওপরই বর্তায়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো চুক্তির ঘোষণা দিয়ে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে-ট্রাম্পের এমন প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। বরং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, ইউক্রেনের নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
সৌদি আরবে হুতি হামলায় নতুন উদ্বেগ
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সহিংসতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের নতুন হামলায় বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হয়েছে। সপ্তাহান্তের এসব হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে প্রায় এক দশক ধরে চলা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বিবিসিকে বলেন, হুতিদের হামলার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয়া হচ্ছে যে তাদের লক্ষ্য শুধু সামরিক স্থাপনা কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হতে পারে, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
র্যাটনির মতে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আরব দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চায়নি। কিন্তু সেই সংঘাতের পরিণতি হিসেবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার মতো ঘটনা সামনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এতে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি সংকটের দায় কার?
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে ইউক্রেনের যুদ্ধকে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে ইরানের সামরিক হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল কার্যত ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।
কিন্তু এভাবে সংকটের দায় অন্যদিকে সরিয়ে দেয়া মার্কিন জনগণের অসন্তোষ কমাতে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কাজ করছে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমস্যা হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নির্ধারণে তার নিয়ন্ত্রণ সীমিত হলেও দেশের ভোটাররা অর্থনৈতিক দুর্ভোগের জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্টকেই দায়ী করতে পারেন। অতীতের প্রশাসনের নীতি কিংবা অন্য দেশের সামরিক পদক্ষেপের ব্যাখ্যা তাদের কাছে সব সময় গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।সংবাদ পড়ুন
নির্বাচনের আগে তাই জ্বালানির দাম কমানো ট্রাম্পের জন্য কেবল অর্থনৈতিক লক্ষ্য নয়, রাজনৈতিক প্রয়োজনও। অথচ রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি থেকে শুরু করে ইউক্রেনের সঙ্গে বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত-কোনো ক্ষেত্রেই এখনো প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি।
সব মিলিয়ে একটি অস্থির সপ্তাহ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কিংবা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত দিয়ে রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়।
আর নির্বাচনের মুখে থাকা ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। জ্বালানির দাম যদি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে, আর আন্তর্জাতিক সংঘাতগুলোও নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে তার রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
ট্যাগস :
