যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার একটি রাস্তায় স্কুল বাসের চালক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বাসটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে শুরু করে। সে সময় বাসের ভেতরে থাকা আতঙ্কিত শিশুদের বাঁচাতে এক ব্যক্তি বাসটিতে লাফিয়ে ওঠেন এবং নিজের প্রচেষ্টায় সেটি থামিয়ে দেন। তিনি জানান, পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত তাকে এই কাজে অনুপ্রাণিত করেছে—যেখানে বলা হয়েছে, একটি জীবন বাঁচানো মানে পুরো মানবজাতিকে বাঁচানোর সমান। শনিবার দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
২৭ বছর বয়সী ইব্রো আহমেদ শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তার এই সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন। চার দিন আগে মিনেসোটার সেন্ট পলে অবস্থিত তার পরিবারের দোকানের সামনে এই ঘটনাটি ঘটেছিল।
তিনি বলেন, “আমি হিসাব-নিকাশ বুঝি, আর এই হিসাবটি আমার কাছে অর্থবহ মনে হয়েছে। আমি নিজের জন্য এটি করিনি; আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিঃস্বার্থভাবে কাজটি করেছি।”
দোকানের নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া নাটকীয় সেই দৃশ্যে দেখা যায়, সোমবার বিকেলে ইব্রো আহমেদ তার পরিবারের দোকান ‘ইয়া ব্রিকস স্ন্যাকস অ্যান্ড টোব্যাকো’-এর বাইরে বিরতির সময় ফুটবল খেলছিলেন। ঠিক তখনই তিনি লক্ষ্য করেন, একটি হলুদ স্কুল বাস দরজা খোলা অবস্থায় তার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে।
আহমেদ জানান, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে, যখন তিনি দেখেন বাসচালকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে—যা খিঁচুনির একটি লক্ষণ হতে পারে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি দৌড়ে বাসের কাছে যান, দরজা দিয়ে ভেতরে লাফিয়ে ওঠেন। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন বাসটিকে কোনোভাবে ‘পার্ক’ মোডে দেওয়া যায় কি না। কিন্তু চারদিকে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে তিনি বাসের জরুরি ব্রেক (ইমার্জেন্সি ব্রেক) টেনে ধরেন। এতে বাসটি থেমে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা বা রাস্তায় থাকা কেউই কোনো আঘাত পাননি।
শুক্রবার সেন্ট পল পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সেদিন আহমেদের পারিবারিক দোকানের সামনে বাসে একটি জরুরি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছিল, যার জন্য প্যারামেডিকদের সহায়তা নিতে হয়েছিল। বাসে থাকা ১৯ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য আরেকটি বাস পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে, বাসচালককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; বর্তমানে তিনি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
আহমেদ শুক্রবার গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কুরআনের একটি আয়াতে বলা হয়েছে, “যে কেউ একটি জীবন বাঁচায়, তারা যেন সমস্ত মানবতাকে বাঁচিয়েছে।” সোমবার শিশুদের উদ্ধারের সময় তার মনে এই আয়াতটি ভেসে উঠেছিল।
