অনলাইন ডেস্ক
জনপ্রশাসনে কার্যকর সংস্কার এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন পে-স্কেল ঘুস ও দুর্নীতির ‘প্রিমিয়াম’ বৃদ্ধির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নীতিগতভাবে যৌক্তিক হলেও এ জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ জোগানের সক্ষমতা সরকারকে আগে যাচাই করতে হবে। জনপ্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে পে-স্কেল বাড়ালে দুর্নীতি কমার কোনো বাস্তব উদাহরণ নেই।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে এমন একটি সময়ে, যখন সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে। বিপুল অর্থের জোগান কীভাবে দেয়া হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যসহ সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়াবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের করের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হলেও ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়ম একটি বড় অংশের কাছে যেন অধিকার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতীতে বেতন-ভাতা বাড়িয়ে দুর্নীতি কমানোর কোনো দৃষ্টান্ত নেই। বরং বেতন বৃদ্ধির তুলনায় ঘুস ও অবৈধ লেনদেন বেড়েছে। এবারো এর ব্যতিক্রম হবে—এমনটি ভাবার কোনো বাস্তব কারণ নেই।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, ‘একদিকে সরকারি কর্মচারীদের সেবামূলক মানসিকতার ঘাটতি, জবাবদিহিহীন আচরণ ও লাগামছাড়া দুর্নীতি চলতে দেয়া, অন্যদিকে সংকীর্ণ স্বার্থে তাদের দাবিমতো বেতন-ভাতা বাড়ানো—এটি সাধারণ জনগণের সঙ্গে উপহাসের শামিল।’
তবে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সরকার যদি বেতন বৃদ্ধির জন্য নির্ভরযোগ্য অর্থসংস্থানের পথ নির্ধারণ করতে পারে, সেক্ষেত্রেও বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, বেতন বৃদ্ধির আগে সরকারি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সব আইন ও বিধির কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
এ ছাড়া সব পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীর আয়-ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রতি বছর হালনাগাদ করে তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যারা এসব হিসাব প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা যেতে পারে। আর যারা প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।
