প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার · ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪৪ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে দুর্গাপূজা মানেই লাল রঙের প্রতিমা। দেবী দুর্গার এই ব্যতিক্রমী রূপকে ঘিরে গ্রামটির পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে। বংশপরম্পরায় চলে আসা প্রায় ৩০০ বছরের এই আয়োজন দেখতে প্রতিবছর পূজার সময় পাঁচগাঁওয়ে আসেন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।
পাঁচগাঁওয়ের এই পূজার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধক সর্বানন্দ দাসের নাম। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত, আসামের কামাখ্যায় সাধনার সময় এক শিশুকন্যাকে ঘিরে দেবীর প্রকাশ অনুভব করেছিলেন তিনি। শিশুটির শরীর লালবর্ণ ধারণ করার পর সাধক তাকে দেবীর রূপ হিসেবে উপলব্ধি করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরে পাঁচগাঁওয়ে লাল প্রতিমায় দুর্গাপূজার প্রচলন হয়।
এই ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছে সাধক সর্বানন্দ দাসের উত্তরসূরিদের পরিবার। পাঁচগাঁও দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির পরিচালক সঞ্জয় দাস জানান, তাদের পরিবারে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে লাল রঙের প্রতিমায় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। এটি মূলত পারিবারিক আয়োজন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বৃহত্তর এলাকার মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সঞ্জয় দাস বলেন, দেবীর প্রতি মানুষের বিশ্বাসের কারণে প্রতিবছরই এখানে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। পূজার দিনগুলোতে ভিড় সামলাতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও সহযোগিতা করেন। স্থানীয় প্রশাসনও সার্বিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
দীর্ঘ এই ধারাবাহিকতায় একবার ছেদ পড়েছিল ১৯৭১ সালে। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিমা স্থাপন করে পূজার পরিবর্তে ঘটপূজার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে জানান সঞ্জয় দাস। এরপরও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে পূজার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে।
সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান চলে। ঢাকের বাদ্য ও শঙ্খধ্বনির সঙ্গে দেবীর আরাধনায় অংশ নেন ভক্তরা। লাল প্রতিমা দেখতে আসা মানুষের মধ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও রয়েছেন। কারও কাছে এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা, আবার কারও কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ।
পাঁচগাঁওয়ের এই আয়োজনের বাইরে মৌলভীবাজারের অন্যান্য এলাকাতেও দুর্গাপূজা ঘিরে উৎসব চলছে। জেলার বিভিন্ন মণ্ডপ সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা ও নানা নকশায়।
জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় মোট ১ হাজার ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে সার্বজনীন মণ্ডপ ৮৯৮টি এবং ব্যক্তিগত মণ্ডপ ১২৪টি। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদর উপজেলায় ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি এবং শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি মণ্ডপ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
