জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে পথচলাটা খুব দীর্ঘ হলো না মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে শুরু, প্রায় ১১ মাসের মাথায় শেষ হলো সেই অধ্যায়। তবে বিদায়ের খবরটি আগে থেকে জানতেন না তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় মাগরিবের পরই জানতে পেরেছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিস্ময় থাকলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়কের।
জাতীয় দলের দায়িত্ব হারালেও বিসিবির সঙ্গে আশরাফুলের চুক্তির মেয়াদ এখনো তিন মাস বাকি। এই সময়ে বোর্ডের অন্য কোনো দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে তার। নতুন দায়িত্ব কী হবে, সেটি অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি!
নিজের বিদায়ের খবর জানার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আশরাফুল বলেছেন, ‘মাত্র গতকালই জানলাম। মাগরিবের পর জানতে পারলাম, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে রেস্ট দেওয়া হয়েছে। পরের ৩ মাস যখন কোনো অ্যাসাইনমেন্ট থাকবে তখন জানানো হবে। যারা আমরা থাকি কোচ হিসেবে, সবার চুক্তিটা এভাবেই হয় যে ক্রিকেট বোর্ড, উনারা যদি মনে করেন, তারা আমাকে অন্য কোথাও কাজ করাবেন, তা তাদের এখতিয়ারে আছে। এটাই।’
দায়িত্ব হারানোর সময়টা অবশ্য আশরাফুলের কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিত। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ২৮ অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে ব্যাটিং কোচ পরিবর্তন নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন তিনি। কারণ, তার বিশ্বাস, বাংলাদেশের টেস্ট দল এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে।
নিজের কাজের সময়ের পরিসংখ্যান টেনে আশরাফুলের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটাও পরিষ্কার। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে আটটি টেস্ট। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয়, একটি ড্র। ব্যাটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও জুটির পরিসংখ্যানও তার কাছে সন্তোষজনক।
টেস্ট দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে আশরাফুল বলেছেন, ‘আমাদের দল আমি মনে করি টেস্টে ভালো ট্র্যাকেই আছে। যদিও আমরা ওয়ানডেতে ভালো করতে পারিনি ত্রিদেশীয় সিরিজে। আমাদের টেস্ট দল কিন্তু খুবই গোছানো মাশাআল্লাহ। আমি যখন ২০২৫ সালের নভেম্বরে দায়িত্বে আসি, আয়ারল্যান্ড সিরিজ দিয়ে, আমি কিন্তু তখনই বলেছিলাম, আমাদের টেস্ট দলটা কিন্তু সবচেয়ে গোছানো, অভিজ্ঞ। ফলও যদি দেখেন, আমি ঢোকার পরে, আলহামদুলিল্লাহ ৮ টেস্টে ৫ জয়, সাথে ১ ড্র। ব্যাটারদের গড়ও ৫০-৫২ বা ৪৫ এরকম। ব্যাটাররা সবাই ভালো করছেন। ৮ টেস্টে ৯ সেঞ্চুরি, ২২-২৩ ফিফটি, ১০০ রানের জুটি প্রায়ই হয়েছে। যে দুই টেস্টে আমরা জুটি বানাতে পারিনি সেখানে আমরা হেরেছি জিম্বাবুয়ে এবং ম্যাকাইয়ে।’
নিজের দায়িত্ব পালনের সময়টাকে ব্যাটারদের উন্নতির একটি ইতিবাচক অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন আশরাফুল। আট টেস্টে নয়টি সেঞ্চুরি, ২২-২৩টি ফিফটি এবং নিয়মিত শতরানের জুটি-এসব পরিসংখ্যান তার কাজের সময়ের সাফল্যের জায়গাগুলো তুলে ধরে। তবে দায়িত্ব হারানোর কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। সেটি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন।
আশরাফুল বলেন, ‘এছাড়া প্রতি টেস্টেই আমাদের দল ভালো করেছে। এটা বোর্ড ভালো বলতে পারবে কেন নেই, আমি একজন পেশাদার কোচ যেহেতু, আমার ক্যারিয়ার কেবল শুরু। আমি ভাগ্যবান যে শুরুতেই এত বড় একটা কাজ করতে পেরেছি বাংলাদেশ দলের হয়ে। আশা করি সামনে আরও অনেক কিছু শিখব ইনশাআল্লাহ, আরও ভালো কাজ করতে পারব।’
লাল বল ও সাদা বলের ক্রিকেটে আলাদা কোচ নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিশ্বের অনেক ক্রিকেট খেলুড়ে দেশই এখন দুই সংস্করণের জন্য আলাদা কোচিং কাঠামো অনুসরণ করছে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানাতে চাননি আশরাফুল। সংক্ষেপে বলেছেন, ‘এটা আসলে আমি এখন বলতে চাচ্ছি না।’
সব মিলিয়ে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে ১১ মাসের পথচলায় ভালো-মন্দ দুই অভিজ্ঞতাই হয়েছে তার। বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সুযোগটিকেই বড় প্রাপ্তি মনে করছেন তিনি। তাই বিদায়টা তার কাছে হতাশার নয়, বরং নতুন কিছু শেখার উপলক্ষ। আক্ষেপের প্রশ্নে আশরাফুলের উত্তরও ছিল বেশ ইতিবাচক।
তিনি বলেছেন, ‘আক্ষেপ নাই। আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক খুশি। আমি শুরুতেই বলেছিলাম, প্রথম এক সিরিজে দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের হয়ে এক দিন কাজ করতে পারাটাও গর্বের ব্যাপার। আমি ১১ মাস কাজ করতে পেরেছি। অনেক ভালো অনেক খারাপ সবকিছু মিলিয়েই সময় কাটিয়েছি। আবার সামনে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।’
জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে আপাতত তার অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে। তবে বিসিবির সঙ্গে চুক্তির বাকি তিন মাসে নতুন কোনো দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতেই জাতীয় দলের মতো বড় মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার সামনে এগোতে চান আশরাফুল।
