২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, নির্যাতন ও আটকের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে নিজের কার্যালয় থেকে তার ছবি সরিয়ে আলোচনায় আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল বশিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথে বিদ্যমান কর্মসম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া এই দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সে সময় পর্যন্ত তিনি পিএসসির সদস্য পদে বহাল থাকবেন।
নিয়োগের বিষয়ে অধ্যাপক শামীমা সুলতানা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে যে দায়িত্বটুকু দেয়া হয়েছে, আমি যেন তা সততার সাথে পালন করতে পারি।’
জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক শামীমা সুলতানা নিজের কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনার ছবি সরিয়ে ফেলেন। পরে তার কার্যালয়ে বসা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই ছবিতে তার পেছনের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দেখা গেলেও শেখ হাসিনার ছবি ছিল না।
অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহসভাপতি ছিলেন। তবে সংগঠনটির বর্তমান কমিটিতে তার কোনো পদ নেই বলে জানা গেছে।
