কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীনের (১৫) প্রেমিক রাজু বলেছেন, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তাজমীন তাকে জানান- বাড়িতে পৌঁছে প্রধান ফটক বন্ধ পেয়েছেন। তার বাবার ফোনো বন্ধ ছিল। তখন রাজু তাকে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে অথবা অন্য কারো ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আটকের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন রাজু। এ সময় তাজমীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও তাদের শেষ যোগাযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
রাজু বলেন, তাজমীন জানান- এক বান্ধবীর বাসায় রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফিরবেন। এরপর ভিডিও কলে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পান বলে দাবি করেন রাজু।
রাজুর ভাষ্য, ভিডিও কলে তাজমীনকে সিএনজিতে দেখে তিনি বকাঝকা করেন। অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু তাজমীন কল কেটে দিয়ে লাইভ লোকেশন বন্ধ করে দেন বলে দাবি তার।
এরপর তাজমীন তাকে মেসেজ পাঠান। সেখানে লেখা ছিল, ‘তুমি চিন্তা করিও না, আমি আমার এক আঙ্কেলের বাসায় যাচ্ছি। সেখানে থেকে কাল বাসায় চলে যাব।’
রাজুর দাবি, পরদিন সকাল ৬টার দিকে আবার ভিডিও কল করলে তাজমীনকে সিএনজিতে দেখতে পান। এ সময় অটোরিকশার চালক জানতে চান, তিনি কার সঙ্গে কথা বলছেন। তাজমীন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানানোর পর কল কেটে দেন।
এরপর আর তাজমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান রাজু। পরদিন এক বন্ধুর কাছ থেকে তার মৃত্যুর খবর পান তিনি।
রাজুর ভাষ্য, তাজমীনের সঙ্গে তার প্রায় ছয় মাসের সম্পর্ক ছিল। তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল বলেও জানান তিনি। তাজমীনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচার দাবি করেছেন রাজু।
রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সকালে তাজমীন কক্সবাজার বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তিনি তাকে গ্রহণ করেন। পরে তারা কলাতলীর ‘মেঘলা’ রিসোর্টের একটি কক্ষে একদিন ছিলেন। এ সময় তাজমীনের পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার ফোন করে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজু তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন বলে দাবি করেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, তাজমীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা রাজু স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক সিএনজিচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।