জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পৌনে দুই কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বুধবার দুদকের ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা দুটি রুজু করা হয়। দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার নথি ময়মনসিংহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল মামলা শেষে আজ আদালতে মামলার নথি পাঠানো হয়েছে। আসামিরা পলাতক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলায় আসামি করা হয়েছে ফখরুদ্দীন ভূঞা (৫৯) ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমকে (৫৫)। জাতীয় পরিচয়পত্রে এই দম্পতির স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া আছে ময়মনসিংহ নগরের সাউথ বাউন্ডারী রোডে। তবে বসবাস করেন নগরের চরপাড়া এলাকায়। ফখরুদ্দীন ভূঞা গত বছরের ডিসেম্বরে অবসরোত্তর ছুটিতে যান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাহানারা খানম তাঁর স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা ফখরুদ্দীন ভূঞার সহায়তায় ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রেখেছেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অপরাধে ফখরুদ্দীন ভূঞাকেও এ মামলায় সহযোগী আসামি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় এককভাবে আসামি করা হয়েছে ফখরুদ্দীন ভূঞাকে। এজাহারে বলা হয়, দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেছেন। অনুসন্ধানে তাঁর নামে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯১১ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৯২ লাখ ১১ হাজার ৯৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতিকে চলতি বছরের শুরুতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। গত ১০ মার্চ তাঁরা সম্পদ বিবরণী জমা দেন। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান ও রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। তদন্তকালে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
