Published on
:
2 min read
এই সময়: স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই সরকারি বা সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও কর্মস্থলের দূরত্বের কারণে একসঙ্গে থাকা সম্ভব না হলে বাড়িভাড়া ভাতা কাটছাঁট করা যাবে না। বেআইনি ভাবে ফেরত নেওয়া টাকা বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদ-সহ সংশ্লিষ্টদের দিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি হাইকোর্টে এ রকম দু’টি মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন দুই শিক্ষিকা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের এক শিক্ষিকার ক্ষেত্রে ‘এইচআরএ-র সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বসীমা’ (সিলিং) সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের যুক্তি খারিজ করেছে আদালত। ওই শিক্ষিকার স্বামী শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। তাঁদের কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৯৪.৪ কিলোমিটার, যেখানে সাধারণ গণপরিবহণে প্রতিদিন যাতায়াত করা অসম্ভব। অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার অভিযোগে প্রশাসন সোনারপুরের শিক্ষিকার থেকে জোর করে টাকা নিয়ে ট্রেজারিতে জমা করায়। তিনি সেই পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করেন হাইকোর্টে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্কুলশিক্ষা দপ্তরের ২০১১–র নির্দেশিকা অনুযায়ী দম্পতির কর্মক্ষেত্রের দূরত্ব যদি নিত্য যাতায়াতের যোগ্য না হয়, তবে পুরো এইচআরএ–ই প্রাপ্য। ফলে জোর করে ট্রেজারিতে টাকা জমা করানোর নির্দেশ খারিজ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিআই-কে পুরো ভাতা পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি ট্রেজারিতে জমার দিন থেকে বার্ষিক ৬% সুদ-সহ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।
অন্য একটি মামলায় বীরভূমের এক শিক্ষিকাকে সম্পূর্ণ এইচআরএ দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর কর্মক্ষেত্রের দূরত্ব ৯০ কিলোমিটারেরও বেশি। বীরভূমের ডিআই আগেই ওই শিক্ষিকার আবেদন কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশনে পাঠিয়েছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ডিআই ফাইল পাঠানো মানেই দূরত্ব নিত্য যাতায়াতের অযোগ্য বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই ২০১১-র মেমো মেনে স্কুলশিক্ষা কমিশনারকে আট সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাতা মঞ্জুর এবং বকেয়ার উপরে ৬% হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দু’টি মামলাতেই আইনজীবী কোয়েল বাগ ও শোভন মজুমদার মামলাকারীদের পক্ষে বিচারপতি সিনহার আদালতে সওয়াল করেন। হাইকোর্টের জোড়া রায়ে স্পষ্ট, স্বামী-স্ত্রী দূরবর্তী স্থানে কর্মরত হলে ‘এইচআরএ সিলিং’-এর নামে ভাতায় কোপ বসানো বেআইনি।
