রবিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। প্রতিবছরের মতো লক্ষ্মীপুজোর দিনই নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজোর খুঁটিপুজো হল। বড়মার ব্যাপ্তি আজ সারাদেশ জুড়ে স্বীকৃত। পুজো শুরুর খানিক আগেই সকাল সকাল বড়মার মন্দির প্রাঙ্গনে উপস্থিত হন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী অর্জুন সিং। ব্যারিকেডের বাইরে থেকেই খুঁটিপুজো দেখেন তিনি। পুজো শেষে তিনি জানান, বড়মার পুজোয় কোনও ভিআইপি কালচার থাকবে না। মায়ের কাছে সকলে সমান।
তৃণমূল আমলে বড়মার মন্দিরে ভিআইপি কালচার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভক্তদের আগেই সুযোগ পেয়ে যেতেন ভিআইপিরা। সেই কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হত। এই কালচার বন্ধ করতে কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী অর্জুন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভিআইপি কালচারের প্রয়োজন নেই। মায়ের কাছে সবাই সমান, কেউ ভিআইপি নন।
রবিবার খুঁটিপুজোর সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তাপস ঘোষ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা। খুঁটিপুজোর সময় উপস্থিত থাকলেও পুজোয় অংশগ্রহণ করেননি মন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন, ব্যারিকেডের বাইরে দাঁড়িয়ে পুজো দেখেছি। আমরা কোনও ভিআইপি কালচার মানি না। মায়ের কাছে সবাই সমান। সকলেরই সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। তাই বাইরে দাঁড়িয়েই খুঁটিপুজো দেখলাম। পুরোহিতরা পুজো করছেন। কমিটির লোকজন তাঁকে সাহায্য করছেন। এটাই আমাদের কালচার।”
খুঁটিপুজোর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বড়মার প্রতিমা তৈরির কাজ। নৈহাটির অরবিন্দ রোডে নির্দিষ্ট স্থানেই চলছে প্রতিমা তৈরি। মন্ত্রী জানিয়ে দেন, মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। মন্দির সংলগ্ন ঘাটের সংস্কারের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিসর্জন কীভাবে করলে ভালো হবে সেই নিয়ে আলোচনা চলছে। চোরবাগানের ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “ভূমিকম্প এলে কেউ রুখতে পারবে না। দুর্ঘটনা কেউ রুখতে পারে না। তাই আগে থেকে আমরা প্রস্তুতি নেব।”
