Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর মরশুমে উৎসবের ব্যস্ততায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে যায়। অথচ এই সময়েও হাসপাতালে রক্তের চাহিদা থাকে যথেষ্টই। বিশেষত কলকাতার বড় হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ বেশি থাকায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের জোগান স্বাভাবিক রাখা স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা থেকে কলকাতায় রক্ত পাঠানো, রক্তদান শিবিরের সময় বাড়ানো এবং বিরল গ্রুপের রক্তের জোগান নিশ্চিত করতে গুচ্ছ পদক্ষেপের নির্দেশ দিল স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল (এসবিটিসি) বা রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কলকাতার তৃতীয় স্তরের বা টার্শিয়ারি কেয়ার চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানকারী হাসপাতালগুলিতে রক্তের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। তাই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের মতো জেলার ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কলকাতায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদান পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাল্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে। পাশাপাশি, ছ’টি বেসরকারি রক্তকেন্দ্রের রক্ত সংগ্রহের ঊর্ধ্বসীমা তাদের পরিকাঠামোগত ক্ষমতা অনুযায়ী বাড়ানো হয়েছে।
রক্তের জোগানে ভাটার টান এড়াতে সরকারি রক্তকেন্দ্রগুলিকে প্রতিদিন রাত আটটা পর্যন্ত রক্তদানের ব্যবস্থা চালু রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সময় আরও বাড়াতে হবে। আগে থেকে নির্ধারিত কোনও রক্তদান শিবির বাতিল করা যাবে না। কোনও কারণে শিবির আয়োজন সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট রক্তকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ইনচার্জকেই।
নির্দেশিকায় বিরল গ্রুপের রক্তের জোগান নিয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। কোনও রক্তকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত না থাকলে রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর আগে কাছাকাছি রক্তকেন্দ্রগুলিতে খোঁজ করতে হবে। এ জন্যে আরএফআইডি-ভিত্তিক সফটওয়্যারের সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। বিরল গ্রুপের রক্তদাতাদের তথ্যভাণ্ডারও তৈরি রাখতে হবে প্রতিটি রক্তকেন্দ্রকে।
পাশাপাশি, হাসপাতালের কর্মীদের নিয়ে রক্তদান শিবির আয়োজন এবং পুজো কমিটি ও ক্লাবগুলিকে রক্তদাতা জোগাড়ে উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। রক্তের জোগানের উপরে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও প্রয়োজন ছাড়া রক্তের রিক্যুইজেশন না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
