প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে রংপুরে। আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তাকে স্বাগত জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে টাঙানো হয়েছে ছবি-সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। সফর নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দির এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মন্দিরজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর সকাল ১১টায় ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থানের পর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। পরে সেখান থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের দাবি, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে এসে রংপুরের মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে আসছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি স্বপন কুমার ভট্টাচার্য বলেন, “ঢাকার বাইরে উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রংপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আমাদের ধর্মদাস মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনে আসবেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। উনার অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর আগমন রংপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে রংপুরের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা দূর হবে এবং নগরীর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে তারা আশাবাদী।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অবহেলিত রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন, যা একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সরকার রংপুরের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল শূন্যের তালিকায়। বিএনপি সরকারের নতুন এই বরাদ্দ নগরীর অবকাঠামো ও সড়ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর নগরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় রয়েছেন নগরবাসী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দির ধর্মসভার সভাপতি পার্থ বোস বলেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের একটি মন্দিরে আসছেন, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কীভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়, তা তিনি সরেজমিনে দেখবেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। এটি তাদের কাছে পরম প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মন্দিরের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এসএসএফসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা মন্দির পরিদর্শন করেছেন এবং সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান তিনি।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক ধর্মদাস রাধাগোবিন্দ মন্দির ধর্মসভা পরিদর্শনের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। এই সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে রংপুরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, তারেক রহমানের আগমন দুর্গোৎসবের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে উন্নয়নবঞ্চিত রংপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে এই সফর নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করছেন নগরবাসী।
উল্লেখ্য, বিভাগীয় নগরী রংপুর জেলায় এবার ৯৬৪টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গা উৎসব। একই সঙ্গে বিভাগের ৫ হাজার ৭৫৩ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সনাতন ধর্মলম্বীদের সবচেয়ে ধর্মীয় এই উৎসব। সনাতন ধর্মলম্বীদের পঞ্জিকা অনুযায়ী এবার মা দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন আর বিজয়া দশমীতে গমন করবেন নৌকাতে।
