প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আজ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আজ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, “জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার।” – এই একটি বাক্যেই যেন আগামীর বাংলাদেশের পুরো রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ একটি নতুন পথচলার সামনে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর মানুষ এমন একটি কণ্ঠস্বরই শুনতে চেয়েছিল, যে কণ্ঠস্বর দেশকে সবার আগে রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তিনটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. জাতীয় স্বার্থ: আমরা অনেক সময় উন্নয়নের জন্য বিদেশি শক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, কোনো চুক্তি, কোনো সহযোগিতাই গ্রহণযোগ্য নয় যদি তা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হয়। দেশের কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থই হবে সব নীতির কেন্দ্রবিন্দু।
২. সার্বভৌমত্ব: বাংলাদেশ একটি রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ। আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস চলবে না। আমরা বন্ধুত্ব চাই, প্রভুত্ব নয়। সকল রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে, সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক হবে – এটাই আজকের বক্তব্যের মূল বার্তা।
৩. আত্মমর্যাদা: একটি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় তার আত্মমর্যাদার ওপর। সাহায্য বা অনুদানের নামে কারো করুণা নিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায়, নিজের পরিশ্রমে বিশ্বের বুকে টিকে থাকাই হলো আত্মমর্যাদা।
আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য আগামী দিনের রাজনীতির জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি কোনো দলীয় বক্তব্য নয়, এটি জাতীয় ঐক্যের ডাক।
এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজের দেশকে ভালোবাসা, দেশের পণ্য ব্যবহার করা, দেশের স্বার্থে এক থাকা – এটাই হোক আমাদের নতুন শপথ।
প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে, ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি আত্মমর্যাদাশীল, আত্মনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
লেখক : রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।
