Published on
:
2 min read
এই সময়, ময়ুরেশ্বর: দীর্ঘদিন ধরে বলি বিভ্রাটের কারণে প্রথম বছরেই মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রাজার পুজো। তার পরে আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আক্ষেপ ছিল প্রজাদের মনে। সরকারি অনুদানে এ বার প্রজাদের উদ্যোগে রাজার গাঁয়ে ফের মাতৃ আরাধনার আয়োজন করা হয়েছে। ইতিহাস বলে, সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের ঢেকা গ্রামে রাজত্ব ছিল রাজা রামজীবন রায়ের। গ্রামে তিনি কালী ও দুর্গাপুজোর প্রচলন করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেবী কালীর নিত্য পুজো হয়। দুর্গাপুজোর স্বাক্ষ্য বহণ করে একটি খাঁড়া।
শোনা যায়, দুর্গা এবং কালীপুজোয় বলি প্রথার জন্য যমদণ্ড এবং কালদণ্ড নামে দু’টি প্রকান্ড খাঁড়া তৈরি করিয়েছিলেন রামজীবন। যার একটি রয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসনের সংগ্রহশালায়। অন্যটির খণ্ডিত অংশ রয়েছে রাজার বংশধরদের কাছে। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, রাজত্বকালের অষ্টম বর্ষে রামজীবন ঢেকায় দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। কিন্তু প্রথম বছরেই পুজোর জন্য নির্মিত খাঁড়াটি ভেঙে যায় বলিবিভ্রাট ঘটে। সেই ভাঙা খাঁড়াটিই রাজার বর্তমান বংশধর লাভপুরের হাতিয়ার রায়চৌধুরী পরিবারে রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। প্রথমেই পুজো বন্ধ হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় পড়েন রাজা। কারণ কোনও পুজো চালু করার পরে তা ন্যূনতম তিন বছর চালানো প্রচলিত ধর্মীয় সংস্কার। সেই সংস্কার রক্ষার্থে রামজীবন তাঁর প্রচলিত পুজোর ভার কুল পুরোহিতদের হাতে তুলে দেন। স্থানীয় কুমারপুর গ্রামে মিশ্রপরিবার আজও সেই পুজো করছেন। আনুমানিক ১৬৭৭–এ ঢেকার রাজত্বের অবসান হয়। রাজার বংশধরেরা ছড়িয়ে পড়েন মুর্শিদাবাদের এঁড়োয়ালি, বীরভূমের হাতিয়া, নওয়াপাড়া গ্রামে। সেখানে তাঁরা আলাদা ভাবে দুর্গাপুজোর প্রচলন করলেও ঢেকায় পুজো প্রচলনের উদ্যোগ আর নেননি কেউ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ঢেকা গ্রামের অধিকাংশ পরিবার কৃষক। পুজো করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। রাজ্যে পালাবদলের বদলের পরে পুজো প্রচলনের আশায় বুক বাঁধেন তাঁরা। সরকারি অনুদানের জন্য দ্বারস্থ হন বিজেপির ময়ূরেশ্বর–৪ মণ্ডল কমিটির সভাপতি সুকান্ত মণ্ডলের কাছে। তাঁর প্রচেষ্টায় অনুদান মঞ্জুর হওয়ায় গ্রামবাসীরা আনন্দিত। রাজার কালীমন্দির চত্বরেই এ বছরের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে এখন ভিড় আট থেকে আশির।
কচিকাঁচাদের কথায়, ‘এতদিন আমাদের গ্রামে পুজো ছিল না। এ বার মনের সুখে তা দেখব।’ গ্রামের মেয়ে পায়েল মণ্ডল, সুভদ্রা বাগদিরা বলেন, ‘এতদিন শ্বশুরবাড়িতে পুজো কাটিয়েছি। এ বার বাপের বাড়িতে পুজো কাটবে।’ পুজো কমিটির সভাপতি সাহেব বাগদি, সহ–সভাপতি সুমন্ত মণ্ডল, অন্যতম উদ্যোক্তা সুব্রত মণ্ডলরা বলেন, ‘গাঁয়ে পুজো না থাকায় গ্রামবাসীদের মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ ছিল। এ বারে সেটা দূর হলো।’ আর সুকান্তর কথায়, ‘গ্রামবাসীদের আক্ষেপ দূর করতে ঢেকা–সহ আরও পাঁচটি গ্রামে পুজো প্রচলনের জন্য নতুন করে অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
