Published on
:
2 min read
বলিউডের অন্যতম চর্চিত দম্পতি পরিচালক মহেশ ভাট এবং অভিনেত্রী সোনি রাজদান। অনেকেই তাঁদের চেনেন, অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের মা-বাবা হিসেবে। দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একে অপরের সঙ্গে পথ চলছেন এই তারকা দম্পতি। তবে এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের এই দীর্ঘ পথচলা শুরুতে একেবারেই মসৃণ ছিল না। বয়সের ফারাক থেকে শুরু করে জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, প্রতিবন্ধকতা জয় করে কী ভাবে আজও তাঁরা বন্ধুত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন সোনি রাজদান।
সোনি রাজদান জানিয়েছেন, মহেশ ভাট তাঁর চেয়ে ৮ বছরের বড় এবং বয়সের এই পার্থক্যের কারণে সম্পর্কের শুরুর দিকে দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতায় বেশ অমিল ছিল। অভিনেত্রী বলেন, ‘মহেশ আগের প্রজন্মের মানুষ। তাই শুরুর দিকে আমাদের চিন্তাভাবনায় অমিল ছিল। কিন্তু আমি খুব খোলা মনে এই সম্পর্কে এসেছিলাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিজেদের ভেঙেছি, আবার নতুন করে গড়েছি। ঝগড়া-অশান্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা কেউ কাউকে ছেড়ে যাইনি। একে অপরের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি।’
মহেশ ভাটের সৎ ও বিশ্লেষণাত্মক মানসিকতার প্রশংসা করে সোনি বলেন, অধিকাংশ পুরুষের পক্ষে নিজেকে বস্তুনিষ্ঠ বা সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখা কঠিন, কিন্তু মহেশ তা অনায়াসেই পারেন। সোনি মজার ছলে বলেন, ‘আমি সব সময় নিজেকে ঠিক মনে করি এবং যে কোনও আলোচনায় সবচেয়ে বেশি তর্ক করি! কিন্তু মহেশের থেকে আমি নিজেকে নিরপেক্ষ ভাবে বা সমালোচকের চোখে দেখতে শিখেছি।’ চার দশকের দীর্ঘ জার্নি শেষে আজ তাঁরা সম্পর্কের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে সব কিছুর ঊর্ধ্বে দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বটাই মজবুত হয়ে উঠেছে।
১৯৮৪ সালে মহেশ ভাটের বিখ্যাত সিনেমা Saaransh-এর কাস্টিংয়ের সময় প্রথম দেখা হয় সোনি ও মহেশের। সেই সময় মহেশ ভাট তাঁর প্রথম স্ত্রী কিরণ ভাটের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান—পূজা ও রাহুল ভাট। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে ১৯৮৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোনি রাজদান ও মহেশ ভাট। পরবর্তীতে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় দুই কন্যা— শাহীন এবং আলিয়া ভাট।