সংবাদ · সাধারণ
তালাবদ্ধ লাইব্রেরি, নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার বই
১৮/১০/২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ‘সাটুরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি’ ভবনটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় ভেতর থাকা লাখ লাখ টাকার দুর্লভ ও মূল্যবান বই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জ্ঞানচর্চার এমন প্রবীণ কেন্দ্রটি বন্ধ পড়ে থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীরা।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৮৩ সালে স্থাপিত এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি ভবনের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। প্রধান দরজায় ঝুলছে পুরোনো তালা, শেওলা ও ময়লা জমে সৃষ্টি হয়েছে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। ভবনের নিচতলায় ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত সামগ্রীর স্তূপ জমে থাকায় এটি এখন ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরিটি বন্ধ থাকায় তারা বই পড়া ও তথ্য আহরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় সাটুরিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তারা।এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আমীর হামজা বলেন, 'পাবলিক লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এ বিষয়টি আমরা সরকারের উর্ধ্বতন মহলের নজরে এনেছি। অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে খুলে দিলে এলাকার ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজ জ্ঞানচর্চার সুযোগ পাবে; যা তরুণদের মাদকাসক্তি ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। লাইব্রেরিটি বন্ধ থাকায় তরুণ সমাজ বইবিমুখ হয়ে পড়ছে।'সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম এ বিষয়ে জানান, লাইব্রেরিটির করুণ অবস্থা ও স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিনে লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং মূল্যবান বইগুলো রক্ষাসহ ভবন সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের দাবি–অনতিবিলম্বে লাইব্রেরিটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হোক, যাতে তরুণ প্রজন্ম আবারও বইমুখী হয়ে স্বাস্থ্যকর সাহিত্য ও প্রগতিশীল জ্ঞানচর্চার সুযোগ পায়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗