মিলানের রাস্তায় সেনাছবি:এক্স
Published on
:
2 min read
ফ্রান্সের পাশাপাশি বিক্ষোভের আগুন ছড়াচ্ছে ইতালিতেও। জিনিসপত্র এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন ইতালির মানুষ। বিক্ষোভ দেখানোর সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। সেই সঙ্গেই চলছে ভাঙচুর ও লুটপাট। এই ভাঙচুর এবং লুটপাট ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে ইতালির সরকার। মিলান রক্ষায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৫০০ সেনা।
গত কয়েক দিন ধরেই ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ইতালিতেও। রবিবার একাধিক শহরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও মিলানে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো এবং তুরিনেও। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ হয় পুলিশের। পাথর ছোড়া হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে । ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মী। সেই সঙ্গে একের পর এক দোকানে লুটপাট চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। একাধিক শপিংমল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বিভিন্ন নামীদামী ব্র্যান্ডের জিনিসপত্র। আগামী দিনেই আরও বড় আকারের বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে ইতালির সরকার। মিলানকে রক্ষা করতে ৫০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেখানকার সরকার। এরই পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। বিক্ষোভের সময় হিংসার ঘটনা ঘটলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং যেসব কিশোর-কিশোরী ভাঙচুর ও লুটপাটে অংশ নেবে, তাদের বাবা-মায়ের ওপর আর্থিক দায়ভার চাপানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইতালিতে বিক্ষোভ দেখানোর সময়ছবি:এক্স
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বলোনিয়া শহরের একটি রেলওয়ে স্টেশন সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার মিলানের অশান্তির ঘটনায় ২৭১ জন যুবককে আটক করা হয়েছে। ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৩ জন নাবালক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক। তুরিন এবং অন্য এলাকা থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে।
একই ভাবে কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে ফ্রান্স। সেখানে পরিকল্পিত বিক্ষোভের সময় কিছু সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেস। সেখানে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকর্নু।
