মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা। ওই সময় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে খুবই দ্রুতগতিতে চলছিল আরপি পরিবহনের বাসটি। ফলে নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌঁছালেই বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বাসটির। এতে ঝরে যায় ১৪টি তাজা প্রাণ। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এমনটাই দাবি করেছেন দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী আব্দুস সালাম।
অতিরিক্ত গতি ও ফিটনেসের অভাব
যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার সময় আরপি পরিবহনের বাসটি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। বড়াইগ্রামের সরকারপাড়ায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির কারণে সামনে থাকা বালুভর্তি একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির জোরালো ধাক্কা লাগে।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় জোনা গেছে। তারা হলেন- রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু আহুদিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), জুয়েল (৪০), জহুর উদ্দিন, শামলাল মোল্লা (৪৫), কাশেম (৩৫), জাহান উদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক মো. সোহেল রানা। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা। আর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাটোর সদর হাসপাতালের আরএমও ড. মাহাবুবুর রহমান জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন ও আর্থিক সহায়তা
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এবং পুলিশ সুপার শরীফুল হক। জেলা প্রশাসন থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার নিহতদের প্রতি পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ সুপার মহাসড়কে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমাতে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
