দ্বিতীয় দিনের মতো আবারও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আর বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়কে অবস্থান করছেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কারাখানার শ্রমিকরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উত্তরার আজিমপুরে তারা অবরোধ করেন।
জানা যায়, আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম বলেন, সড়কে যান চলাচল ধীর গতি। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত আছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুলাইদ গ্রামের এমসি বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘সি স্টেজ বিডি লিমিটেডের’ শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন বলে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান।
প্রায় এক ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান তিনি।
আন্দোলনরত শ্রমিক হাসান, মেহেদী হাসমত আলী জানান, গত ১০ অক্টোবর তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সেদিন ১৩ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দিনে বেতন না পেয়ে তারা আবারও আন্দোলনে নামেন। বুধবার বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ না করে কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করতে থাকে। এদিকে বৃহস্পতিবার কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
এর জেরে সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। পরে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়।
শ্রমিকরা প্রস্তাব উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকে। এ সময় মহাসড়কে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ পেছনে ফিরে এসে মহাসড়ক অবরোধে থাকা শ্রমিকদের সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
