Published on
:
2 min read
ওষুধের দোকানে খোলাখুলি মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করে খুন হয়েছিলেন পাঞ্জাবের সমাজকর্মী পারভিন্দর সিং ঝোটা। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত দোকান মালিক অশ্বিনী কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাঞ্জাব ও রাজস্থান পুলিশ একটি যৌথ অভিযানে রাজস্থানের চুরু জেলার সালাসারের একটি হোটেল থেকে অভিযুক্ত অশ্বিনী কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে পাঞ্জাবের মানসা এলাকায় একটি ওষুধের দোকানে খোলাখুলি মাদক বিক্রির অভিযোগ পেয়ে পারভিন্দর সেখানে যান। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এ নিয়ে একটি লাইভ ভিডিয়োও পোস্টও করছিলেন তিনি। সেই ভিডিয়োতে পারভিন্দরের সঙ্গে দোকানের মালিক এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের প্রবল বচসা হতে দেখা যায়। বচসার মধ্যেই পারভিন্দরকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়েন অশ্বিনী। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পারভিন্দর। তাঁর মোবাইল ফোনটিও হাত থেকে পড়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, পারভিন্দরের পায়ে এবং পেটে গুলি লাগে। তাঁর সহযোগীরা পারভিন্দরকে উদ্ধার করে মানসা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এর পরেই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে নেমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের অনুমান, এর পেছনে আরও বড় কোনও মাদক পাচারকারীদের চক্র থাকতে পারে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
পাঞ্জাবের মানসা এবং সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে মাদক বিরোধী আন্দোলন চালাচ্ছিলেন পারভিন্দর। এলাকার একাধিক ওষুধের দোকানে বেআইনি ভাবে মাদক বিক্রির অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়েছেন পারভিন্দর। সেই সব ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি। ফেসবুকে তাঁর ২৪,০০০ ফলোয়ার রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালেও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন পারভিন্দর সিং ঝোটা। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে একটি ওষুধ দোকানে বেআইনি মাদক বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান তিনি। সেই ঘটনায় পুলিশ পারভিন্দরের বিরুদ্ধে হেনস্থা, দাঙ্গা করা, বেআইনি অনুপ্রবেশ-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় পারভিন্দরকে। তবে, গ্রেপ্তারির দু’মাস পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
পারভিন্দরকে খুনের ঘটনায় লেগেছে রাজনৈতিক রং। আম আদমি পার্টির নেতা বলতেজ পান্নু এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘটনায় সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। আপ সরকার পাঞ্জাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ, এমনই দাবি করেছেন শিরোমণি অকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়া। একই দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং এবং বিজেপি নেতা কেবল সিং ধিলোঁ।
