হরমুজ় প্রণালীতে আবার আক্রান্ত বাণিজ্যিক জাহাজ। রবিবার ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ় প্রণালী পেরোনোর সময় পর পর দু’টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। দু’টি জাহাজেই ভারতীয় নাবিকেরা ছিলেন। ঘটনার পর থেকে দু’জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে কঠোর বিবৃতি জারি করেছে বিদেশ মন্ত্রক। অবিলম্বে হামলা বন্ধ এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি পেট্রো ডলফিনে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। রবিবার তার উপর একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে। ন’জনকে উদ্ধার করা গেলেও ওই জাহাজের দুই ভারতীয় নাবিকের খোঁজ মেলেনি। এর পর ওই রুটেই যাচ্ছিল মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি ভলথেরা। তাতেও ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। দ্বিতীয় জাহাজটির উপর হামলা হলেও নাবিকেরা সকলে সুরক্ষিত রয়েছেন। দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী।
ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে বিদেশ মন্ত্রক। একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা সবসময় সরকারের অগ্রাধিকার। একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে এমন হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এমনিতেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই ধরনের হামলা আগামী দিনে আরও উত্তেজনার সৃষ্টি করবে হরমুজ় সংলগ্ন এলাকায়। তাই অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ হওয়া দরকার। নাবিকদের সুরক্ষা, হরমুজ়-সহ আন্তর্জাতিক জলপথগুলিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ করতে হবে এবং আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী উত্তপ্ত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং হুমকি দিয়েছে। এর আগেও ভারতীয় জাহাজ সেখানে আক্রান্ত হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজে অনুরূপ ড্রোন হামলা হয়েছিল ওমান উপকূলের কাছে। তাতে ২২ জন ভারতীয় ছিলেন। তবে তাঁরা সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন।
