Published on
:
3 min read
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে আপত্তি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিরোধীরা। এর মাঝেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টে নতুন পিটিশন দাখিল করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মামলাকারী হিসেবে নাম রয়েছে আরও ১০ ইন্ডি জোটের নেতার। পিটিশনে কী কী আবেদন করা হলো?
এক নজরে
আবেদনকারী: রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবির।
বিষয়: SIR এবং ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়ম।
মূল দাবি: দেশজুড়ে SIR-এ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ।
ভোটারদের অধিকার: নাম বাদ দেওয়ার কারণ প্রকাশ, নোটিস ও শুনানির সুযোগ।
আরও দাবি: নির্বাচন কমিশনের নথি তলব, ফর্ম ৬-এর নিয়ম মেনে ব্যবহার এবং দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
সুপ্রিম কোর্টে কী কী দাবি করা হলো?
Rahul Gandhi বনাম Election Commission of India নামে নথিভুক্ত এই মামলায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং ভোটারদের অধিকার নিয়ে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে। সেগুলোই হলো—
১) SIR-সংক্রান্ত সমস্ত নথি তলব
এই মামলায় দেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে SIR চালুর সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ফাইল, বৈঠকের কার্যবিবরণী, আপত্তির নথি এবং ECINET ও ERONET ব্যবস্থার অ্যাক্সেস লগ চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন SIR শুরু করার সিদ্ধান্তের নথিও প্রকাশ্যে আনার ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছে।
২) SIR-এর সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা
এই আবেদনে SIR সংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আর্জি জানানো হয়েছে। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ, ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনারস অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর ১৮ নম্বর ধারা এবং ‘টি এন সেশন বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (১৯৯৫)’ মামলা-সহ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী বিভিন্ন রায়ে বর্ণিত নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। আবেদনে জানানো হয়েছে, যথাযথ আইনি কর্তৃত্ব ছাড়া নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করা উচিত।
৩) আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ভোটার তালিকা তৈরি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কিংবা আইনি বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ নম্বর ধারার আওতায় পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।
৪) নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা
SIR নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি এবং কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইন মেনে গ্রহণ ও নথিভুক্ত করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী আপত্তি জানিয়ে ১৪ বার চিঠি দিয়েছিলেন।
৫) অনলাইন ফর্ম ৬-এর নিয়ম মেনে সংশোধন
আবেদন জানানো হয়েছে, নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার অনলাইন ফর্ম অর্থাৎ ফর্ম ৬ টি ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০’-এ (Registration of Electors Rules, 1960) নির্ধারিত সংস্করণ অনুযায়ী হয়। বিধিমালা সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্ধারিত ফর্ম-এ কোনও পরিবর্তন করা উচিত নয় বলে জানানো হয়েছে।
৬) অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি
এই আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। সেই কমিটিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, তথ্যের পরিবর্তন, ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার এবং ইভিএমের প্রযুক্তিগত কাঠামো ও ব্যবহারের পদ্ধতি খতিয়ে দেখার প্রস্তাব রয়েছে।
৭) বাদ পড়া ভোটারদের নাম ও কারণ প্রকাশ
এই আবেদনে এখনও পর্যন্ত বুথভিত্তিকভাবে SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের নাম এবং প্রত্যেকের নাম বাদ দেওয়ার কারণ প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক তথ্য এবং যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
৮) নোটিস ও শুনানি ছাড়া নাম বাদ নয়
আইন অনুযায়ী বাদ যাওয়া ভোটারকে নোটিস দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারকে বক্তব্য জানানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ না দিয়ে নাম বাদ না দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এমনকী আগামী দিনে নির্বাচন রয়েছে এমন রাজ্যগুলিতে আইননির্ধারিত শেষ তারিখ পর্যন্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নাম তোলার সুযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে।
৯) দেশজুড়ে চলা SIR-এ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ
এই আবেদনে জানানো বিষয়গুলির বিচার ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত রাজ্যে চলমান SIR প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
১০) আদালতের বিবেচনায় অন্য উপযুক্ত নির্দেশ
ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য যে কোনও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা ও ভোটাধিকার প্রয়োগের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বর্তমান রিট পিটিশনটি দায়ের করা হচ্ছে।
পাঁচটি FAQ
১. রাহুল গান্ধী কেন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন?
SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং ভোটারদের অধিকার নিয়ে অভিযোগের বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
২. স্বাধীন কমিটি কী খতিয়ে দেখবে?
আবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া ও পরিবর্তন, ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার এবং ইভিএমের প্রযুক্তিগত কাঠামো ও ব্যবহারের পদ্ধতি পরীক্ষা করার প্রস্তাব রয়েছে।
৪. SIR-এ নাম বাদ পড়লে কী দাবি করেছে বিরোধীরা?
নাম বাদ দেওয়ার কারণ প্রকাশ, আইন অনুযায়ী নোটিস ও শুনানির সুযোগ এবং যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা চেয়েছে তারা।
৫. সুপ্রিম কোর্ট কবে মামলাটি শুনতে পারে?
শুনানির প্রকৃত অগ্রগতি জানতে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ দেখতে হবে।
