আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতের মাত্রা কিছুটা থিতিয়ে আসতেই এবার মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণের খোঁজে নেমেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে শামিল হতে চেয়ে এবার রিয়াধের দরবারে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তেল আভিভ। তবে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আভিভের সেই আশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় পাঠানো ওই সামরিক সহায়তার প্রস্তাব সাফ নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে রিয়াধের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এর নেপথ্যে মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সমঝোতা বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ সুগম করা। তেল আভিভের ধারণা ছিল, অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে দুই মার্কিন মিত্র একসঙ্গে লড়াই করলে সম্পর্কের বরফ গলবে। কিন্তু সৌদি নেতৃত্ব স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইজরায়েলকে নিজেদের সামরিক অভিযানে অংশ নিতে দিলে দেশের অভ্যন্তরে এবং গোটা আরব দুনিয়ায় তীব্র গণবিক্ষোভ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্যালেস্তাইন সংকট ও স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মেলানো যে সম্ভব নয়, সেই অবস্থান এখনও ধরে রেখেছে রিয়াধ।
এমন এক সময়ে এই প্রস্তাব খারিজের খবর সামনে এল, যখন হুথিদের একের পর এক হামলায় সৌদি আরবের উড়ান পরিষেবা ও পরিকাঠামো বেশ বিপর্যস্ত। রাজধানী রিয়াধের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও বহু উড়ান বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা সত্ত্বেও ইজরায়েলের হাত ধরতে চাইছে না সৌদি প্রশাসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সায় ছাড়া এই রণক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর প্রবেশ অসম্ভব। ২০২৩ সালের শরৎকালেও দুই দেশ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল বলে দাবি ওঠে, যার জেরেই নাকি তৎকালীন সময়ে গাজায় বড় ধরনের উত্তেজনা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সাম্প্রতিক একের পর এক টানাপোড়েন এবং সৌদি আরবের কড়া অবস্থানে স্পষ্ট, যুদ্ধের ময়দানকে হাতিয়ার করে রাতারাতি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে বাজি নেতানিয়াহু ধরতে চেয়েছিলেন, তাতে আপাতত বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কাই খেল তেল আভিভ।
