কালবেলা · সাধারণ
নারায়ণগঞ্জে দুই কারখানার শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
১৩/১০/২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়া ও পাওনা পরিশোধের দাবিতে পৃথক দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের চাষাঢ়ায় সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস ও ইউনাইটেড অ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সেঞ্চুরি অ্যাপারেলসের শ্রমিকেরা। মিছিল শেষে তারা চাষাড়ার সলিমুল্লাহ সড়কে বিকেএমইএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একই সময়ে বন্ধ থাকা ইউনাইটেড অ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা চাষাঢ়া শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হন। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারাও সড়ক অবরোধ করেন।
সেঞ্চুরি অ্যাপারেলসের বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই তাদের কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সার্ভিস চার্জসহ পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি। কারখানা চালু ও পাওনা পরিশোধের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
অন্যদিকে ফতুল্লার ইউনাইটেড অ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকেরা গত কয়েক দিন ধরে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। পুলিশ ও শিল্পপুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কারখানাটির সুইং সেকশনের সুপারভাইজার মো. রোমানের সঙ্গে কাজের চাপ নিয়ে শ্রমিকদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এর পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলেও চাষাড়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইউনাইটেড অ্যাপারেলের শ্রমিকেরা। সেদিন মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মঙ্গলবার আবারও সড়কে নামেন তারা।
একই দিনে দুটি কারখানার শ্রমিকেরা পৃথক স্থানে সড়ক অবরোধ করায় চাষাড়া ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধের খবর পেয়ে শিল্পপুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজিদুর রহমান বলেন, ‘মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনায় বসার কথা ছিল। সোমবারও তারা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আবারও আন্দোলনে নেমেছেন। দুটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।’
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তাদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗