কাঠের তৈরি বিশেষ ‘ডুবন্ত ক্যারিয়ার’ ব্যবহার করে নাফ নদী ও সংযুক্ত খালের আঁকাবাঁকা পথে ইয়াবা পাচারের অভিনব কৌশলের সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কক্সবাজারের উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত বিশেষ সরঞ্জাম।
গতকাল মঙ্গলবার উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক এবং অস্ত্র ও ডুবন্ত ক্যারিয়ারসহ পাচারকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে বিজিবি।
আটক ব্যক্তিরা হলেনÑ উখিয়ার বালুখালী এলাকার রহমতেরবিল গ্রামের ফরিদের ছেলে মো. রকি আহমেদ (২৬), নলবনিয়া গ্রামের নুর আলমের ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৫) এবং মধ্যম ফারিরবিল গ্রামের ফরিদ আলমের ছেলে খোরশেদ আলম (২৬)।
বিজিবি জানায়, সোমবার রাতে আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলাল উদ্দিন ও খোরশেদ আলমকে আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, কাঠের তৈরি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, কপিকল, ব্যাটারি, ইলেকট্রিক মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার উখিয়া বালুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ইয়াবাসহ রকি আহমেদকে আটক করা হয়। একই দিন পালংখালী এলাকায় মালিকবিহীন আরও ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা।
বিজিবির দাবি, কাঠের তৈরি বিশেষ এই ডুবন্ত ক্যারিয়ারের মাধ্যমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পরিবহন সম্ভব। খালের আঁকাবাঁকা পথে ক্যারিয়ারটি চলাচল করাতে স্টিলের তার, কপিকল ও ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করত পাচারকারীরা। প্রচলিত নৌযানের পরিবর্তে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাচারের নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছিল বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর এই ব্যাটালিয়ন এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আটক করা হয়েছে ২২৮ জনকে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।