আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডলারের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী হল ভারতীয় মুদ্রা। বুধবার সকালে মার্কিন ডলারের নিরিখে ভারতীয় টাকার দাম ২৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়াল ৯৪.৬২ টাকা। জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও ঘিরে ডলারের জোগান বৃদ্ধি, দেশের শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বগতি এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার হস্তক্ষেপ—এই তিনটি বিষয় টাকার দাম বাড়াতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তবে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এখনও ভারতীয় মুদ্রার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তঃব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বুধবার সকালে ১ ডলারের বিনিময়ে ৯৪.৭৮ টাকায় লেনদেন শুরু হয়। পরে টাকার দাম আরও বেড়ে ৯৪.৬২-তে পৌঁছয়। এর আগে সোমবার লেনদেনের শেষে ডলারের তুলনায় টাকার দাম ছিল ৯৪.৯১।
জিও-র আইপিও ঘিরে কেন বাড়ল টাকার দাম?
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অধীন জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও বুধবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য খুলেছে। এই আইপিও ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ডলারের জোগান বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইপিওতে শেয়ার কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনেক সময় বাজারে ডলার বিক্রি করে ভারতীয় টাকা কেনেন। এর ফলে সাময়িকভাবে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ে এবং টাকার দাম শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিও-র আইপিও সংক্রান্ত বিদেশি ডলারের প্রবাহ এবং RBI-এর সহায়তা টাকার দাম বাড়ার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
আইপিও-র বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় ডলারের লেনদেন সামলাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ‘সেল-বাই সোয়াপ’ পদ্ধতিও ব্যবহার করেন। এই ব্যবস্থায় তাঁরা প্রথমে ডলার বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করেন এবং পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডলার পুনরায় কেনার চুক্তি করেন। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের অংশে বরাদ্দ শেয়ারের তুলনায় ৩০ গুণেরও বেশি দরপত্র জমা পড়েছে।
টাকার দাম বাড়াতে RBI-এর ভূমিকা
বাজারে টাকার উপর চাপ কমাতে RBI-ও হস্তক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে। ডলারের দাম ৯৫ টাকার আশপাশে পৌঁছলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ডলার বিক্রি করে টাকার পতন রোখার চেষ্টা করেছে। তবে এই ঊর্ধ্বগতি কত দিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে সতর্ক রয়েছেন বাজারের কারবারিরা।
চড়া তেল ও শক্তিশালী ডলার নিয়ে উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৪২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০.৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্য এশিয়াতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি তেলের দাম বাড়িয়েছে। ভারত যেহেতু বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বাড়ে এবং টাকার উপর চাপ তৈরি হয়।
এদিকে ডলার ইনডেক্স ০.০৬ শতাংশ বেড়ে ১০১.৫৮ হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের শেয়ার বাজারে সেনসেক্স ৬৬৫.১০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪,৫১৮ এবং নিফটি ৫০ ১৮৮.৪০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,০৭৭.৩৫-এ পৌঁছেছে। তবে সোমবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ১,১৪৮.৬৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। ফলে টাকার দামের এই সাময়িক স্বস্তি স্থায়ী হবে কি না, সেদিকেই নজর বাজার বিশেষজ্ঞদের।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
