আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই। এবার কি পেশাদার ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর পথে জেমস অ্যান্ডারসন? তার ক্লাব ল্যাঙ্কাশায়ারকে ঘিরে নতুন এক সিদ্ধান্তের খবরে তৈরি হয়েছে এমনই জল্পনা। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি পেসার।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ মৌসুমের জন্য ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি পেসারকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেবে না তার কাউন্টি দল ল্যাঙ্কাশায়ার। ফলে পেশাদার ক্রিকেটে তার দীর্ঘ পথচলা থেমে যেতে পারে। যদিও ৪৪ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন এখনও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি।
টেস্ট ক্রিকেটে ৭০৪ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়া অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। তবে তাতে থেমে যায়নি তার ক্রিকেটযাত্রা। এরপরও ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে গেছেন তিনি। বয়সকে উপেক্ষা করে বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন বারবার। গত মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে ১৭ গড়ে শিকার করেছেন ৫০ উইকেট। ওই বিভাগে এক মৌসুমে অন্তত ৫০ উইকেট নেওয়া মাত্র সাতজন বোলারের তালিকায় জায়গা করে নেন এই অভিজ্ঞ পেসার।
এমন পারফরম্যান্সের পরও ল্যাঙ্কাশায়ারের নতুন চুক্তির পরিকল্পনায় অ্যান্ডারসনের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ক্লাবটির নতুন ক্রিকেট পরিচালক পল ফারব্রেস ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড কেনিয়নের সঙ্গে বৈঠক হয় অ্যান্ডারসনের। সেখানে ক্লাবের আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে জানানো হয়। সেই পরিকল্পনায় অভিজ্ঞ এই পেসারের জন্য নতুন চুক্তির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
আগামী ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ফারব্রেস। তবে দায়িত্ব শুরুর আগেই অ্যান্ডারসনকে ঘিরে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় জানালে অ্যান্ডারসনের শেষটা হতে পারে সাবেক সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রডের বিদায়ের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন। ২০২৩ সালে অ্যাশেজের ওভাল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রড। তার বিদায় ছিল রীতিমতো নাটকীয়। ব্যাট হাতে শেষ বলে ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি বোলিংয়ে নিজের শেষ ডেলিভারিতেও উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্য ও সম্প্রচারকাজেও নিজেকে সফলভাবে মানিয়ে নিয়েছেন এই পেসার।
অ্যান্ডারসনের অবশ্য ইচ্ছা ছিল জাতীয় দলের হয়ে আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাওয়ার। ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর অনুরাগ এবং বয়স বাড়ার পরও পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখার প্রচেষ্টা ছিল স্পষ্ট। তারপরও ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ছাড়াই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২৪ সালে ভারতের সফরের পর ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করে, অ্যান্ডারসনকে আর দলের পরিকল্পনায় রাখা হবে না। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্তের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না অভিজ্ঞ এই পেসার।
এবার ল্যাঙ্কাশায়ারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পর পেশাদার ক্রিকেটকেও বিদায় জানাতে হতে পারে তাকে। গত মৌসুমে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র দুটি জয় পাওয়া ল্যাঙ্কাশায়ার এখন নতুনভাবে দল সাজানোর পথে হাঁটতে চায়। সেই পরিকল্পনায় অ্যান্ডারসনকে না রাখার সিদ্ধান্ত তারই অংশ।
২০০২ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে অ্যান্ডারসনের শিকার মোট ১১৯৩ উইকেট। এর মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটেই নিয়েছেন ৭০৪ উইকেট। একই বছরের মে মাসে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তার। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই পেসারের ক্যারিয়ারে তাই ক্লাবটির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিকেটার হিসেবে অধ্যায় শেষ হলে আপাতত সংবাদমাধ্যমের কাজেই বেশি সময় দিতে পারেন অ্যান্ডারসন। ‘টেইলেন্ডার্স’ পডকাস্টের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি রয়েছে তার বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ। ভবিষ্যতে কোচিংয়ে আসার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এই মুহূর্তে কোচিংকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই যা তিনি নিজেই একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন।
