আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে হারের পর বড় ধাক্কা খেল নিউজিল্যান্ড। চোটের কারণে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলিতে খেলতে পারবেন না অভিজ্ঞ পেসার ম্যাট হেনরি। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও থাকছেন না লকি ফার্গুসন ও অলরাউন্ডার জশ ক্লার্কসন। ফলে ২৭ অক্টোবর ওয়েলিংটনে হতে চলা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বোলিং বিভাগ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কিউয়িদের।
শেষ ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর হারতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। সেই ম্যাচে দুই ওভার বল করার পর কাফ মাসলে টান অনুভব করে মাঠ ছাড়েন হেনরি। তাঁর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কথা মাথায় রেখে টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাকি ম্যাচগুলিতে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।
ফার্গুসনও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন না। দ্বিতীয় ম্যাচে তিন ওভার বল করে ৩৭ রান দেওয়ার পর মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। তবে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত সিরিজে খেলার সুযোগ না পাওয়া ক্লার্কসনকেও শেষ দুই ম্যাচে দলে দেখা যেতে পারে।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে কাইল জেমিসনকে খেলানোর সম্ভাবনা প্রবল। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তাঁকে খেলানো হয়নি। তবে ২৭ অক্টোবরের ম্যাচের পর নিউজিল্যান্ড দল ছেড়ে ক্যান্টারবারির হয়ে ফোর্ড ট্রফিতে খেলবেন তিনি। ৩১ অক্টোবর বেসিন রিজার্ভে একদিনের ম্যাচ খেলার মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি সারবেন জেমিসন।
জেমিসনের পরিবর্তে পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ফার্গুসনকে ফেরানো হতে পারে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টির জন্য বিকল্প হিসেবে ম্যাট ফিশারকেও ডাকা হয়েছে। ম্যাচের পর তিনি নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলে ফিরে ভারতের ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টে খেলবেন।
ভারতের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের পেসারদের পারফরম্যান্স এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২২৬ রান তাড়া করে চার উইকেটে জিতেছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচেও ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চার উইকেটে জয় তুলে নেয় সূর্যকুমার যাদবের দল।
প্রথম ম্যাচে হেনরি ৩.৪ ওভারে ৫৭ রান দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে নতুন বলে ভালো বোলিং করলেও চোটের কারণে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৪৩ রান দেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন অ্যাডাম মিলনে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ৩.৫ ওভারে ৪১ রান দেন জ্যাকব ডাফি।
ফার্গুসনও প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩৪ রান এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তিন ওভারে ৩৭ রান দেন। নাথান স্মিথ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২০ ও ৩৪ রান খরচ করেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁর একমাত্র সাফল্য ছিল তরুণ ভারতীয় ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর উইকেট।
তৃতীয় ম্যাচে জেমিসনের সঙ্গে অ্যাডাম মিলনে, ব্লেয়ার টিকনার কিংবা ডাফির মধ্যে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে এই পেসারদের অতীত পরিসংখ্যানও খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না নিউজিল্যান্ডকে।
পরপর দুই ম্যাচে রান তাড়া করে ভারতের জয়ের পর শিশিরের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তাঁর মতে, দ্বিতীয় ইনিংসে বল ব্যাটে আরও ভালভাবে আসছে। পাশাপাশি টসও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জটা কঠিন। এই ম্যাচে হারলেই পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সিরিজ জিতে নেবে ভারত। তাই ঘরের মাঠে সিরিজে ফেরার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে বোলিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতেই হবে স্যান্টনারের দলকে।
