শনিবারের পর রবিবারও দিনভর দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল দিল্লিতে। চলল ধরপাকড়ও। এ দিন সন্ধ্যায় ফের একদল ছাত্র-যুব বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন দিল্লির কনট প্লেস এলাকায়। জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নামেন আন্দোলনকারীরা। প্রস্তুত ছিল পুলিশও। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হতেই তাঁদের আটক করা শুরু হয়। টেনেহিঁচড়ে তোলা হয় প্রিজ়ন ভ্যানে। এসএফআই-এর দাবি, তাদের নেত্রী ঐশী ঘোষকে আটক করা হয়েছে।
এ দিন সন্ধ্যায় কনট প্লেসের কাছে রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের সাত নম্বর গেটের সামনে জমায়েত শুরু করেন একদল মহিলা বিক্ষোভকারী। তাঁদের মধ্যে থেকে অনেককে আটক করে একটি বাসে তোলা হয়। রবিবারও সকাল থেকে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলকে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হয়। বিশেষ করে যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকাগুলি। এ দিন সকাল থেকে দফায় দফায় জমায়েতের চেষ্টা হয় যন্তর মন্তরের অদূরে কনট প্লেসে। সকালে সিজেপি এবং বেশ কিছু ছাত্র সংগঠনের সমর্থকেরা হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা হাজির হতেই তাঁদের আটক করা শুরু করে পুলিশ। বিক্ষেভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, টানাহেঁচড়া চলে। তাঁদের অনেককে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলা হয়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ‘ককরোচদের’ এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছে এসএফআই, আইসা-সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও। দুপুরে কনট প্লেসে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস। আরও পরে একদল ছাত্র-যুব ব্যারিকেড টপকে কনট প্লেসের দিকে এগোতে শুরু করেন। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন আইসা নেত্রী নেহা বোরা। বিক্ষোভকারীরা এগোতে শুরু করতেই নেহা-সহ বাকিদের আটক করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে দিল্লির প্রেস ক্লাবের সামনে এ দিন দুপুরে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর সমর্থকেরা। জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা। পরে পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে হটাতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সংগঠনের কয়েক জন সমর্থককে আটক করে বাহিনী।
সংক্ষেপে
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে শনিবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি।
- সিজেপির কর্মসূচিকে মাথায় রেখে শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
