শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি, অথচ ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে, চামড়া উঠছে কিংবা ঠোঁটের কোণে দেখা দিচ্ছে ফাটল! অনেকেই মনে করেন, ঠোঁট ফাটার সমস্যা শুধু শীতকালেই হয়। কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তন থেকে শুরু করে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও বাড়িয়ে দিতে পারে এই সমস্যা।
ঠোঁটের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা। এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি না থাকায় ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারায়। তাই শীতের অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।
কেন ফাটছে ঠোঁট?
বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনে ঠোঁটের আর্দ্রতা কমতে পারে। এ ছাড়া ঠোঁট শুকিয়ে গেলে বারবার জিভ দিয়ে ভেজানোর অভ্যাসও সমস্যাটি বাড়ায়। লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সময় ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করা, সুগন্ধিযুক্ত লিপস্টিক বা লিপবামের ব্যবহার এবং টুথপেস্টের কিছু উপাদানের প্রতিক্রিয়াতেও ঠোঁটে জ্বালাপোড়া ও ফাটল দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির সঙ্গেও ঠোঁটের কোণে ফাটার সম্পর্ক থাকতে পারে।
ঠোঁটের যত্নে যা করবেন
- ঠোঁট নরম রাখতে সুগন্ধি ও জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং ঘুমানোর আগে এটি লাগানো উপকারী।
- বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো কিংবা শুকনো চামড়া টেনে তোলা বন্ধ করুন। এতে ক্ষত আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার লিপবাম ব্যবহার করুন। মেনথল, কর্পূর কিংবা সুগন্ধিযুক্ত কোনো প্রসাধনী ব্যবহারে জ্বালা হলে সেটি এড়িয়ে চলুন।
কখন সতর্ক হবেন?
নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁট না সারলে, বারবার রক্তপাত হলে কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত ও ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, ঠোঁট ফাটা ছোট সমস্যা মনে হলেও অবহেলা করলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই শীত আসার আগেই সচেতন হোন, ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখুন এবং সুস্থ রাখুন আপনার হাসি।
