খুলনা গেজেট অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৫:২৩ অপরাহ্ণ
খামারের আড়ালে চলছিল ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির কারবার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩টি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় চার মণ মাংসসহ আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামের একজনকে আটক করেছে এসআরবি-৬। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত পলাশ ওই গ্রামের মৃত লুৎফর মাহমুদের ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব মাংস গরু বা খাসির নামে ঢাকাসহ বিভিন্ন নামীদামি হোটেলে সরবরাহ করা হতো। তবে এত বড় জালিয়াতির ঘটনায় নিয়মিত মামলা না করে কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতে কম সাজা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) গভীর রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে’ এ অভিযান চালানো হয়। শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ডুমুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন।
এসআরবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই খামারে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। রাতে অভিযানের সময় তিনটি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার প্রস্তুতি চলছিল। হাতেনাতে ৪ মণ মাংসসহ পলাশকে আটক করা হলেও তার ৪-৫ জন সহযোগী পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত ১ জুলাই খামারটি গড়ে তোলা হয়। চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে আড়াল করে সেখানে মূলত ঘোড়া রেখে রাতের আঁধারে জবাই করা হতো। ১০ কেজির প্যাকেটে এসব মাংস গরু বা খাসির নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির জানান, অস্বাস্থ্যকর ও বেআইনিভাবে জবাই করা এ মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে এবং জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এত বড় প্রতারণার পেছনে থাকা পুরো চক্রকে আড়াল করে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতে সামান্য সাজা দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খুলনা গেজেট/এএজে
