Published on
:
2 min read
বাংলাদেশে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা করতে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। তবে, পুজোর আগেই বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ যে পরামর্শ দিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। কী কারণে পুলিশ, ড্রোন ও রাজনৈতিক নেতা–কর্মীদের পাহারায় দুর্গাপূজা করতে হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই পরিষদ। সেই সঙ্গে এই পরামর্শকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও মন্তব্য করেছে ওই কমিটি।
সম্প্রতি কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে একটি মন্দিরে দুর্গা ও লক্ষ্মী-সহ ৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের হিন্দুরা। তবে, এর মধ্যেও গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে পূজার সংখ্যা বেড়েছে বলে দাবি সরকারের। সেই সঙ্গেই পুজোর সময়ে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
একগুচ্ছ পরামর্শ পুলিশের
বিগত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোর সময়ে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সেই সমস্ত ঘটনা যাতে এ বার না ঘটে সেই জন্য একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। নিরাপদে, শান্তিপূর্ণভাবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে পুজোর আয়জন করা যায় সেই জন্যই এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। যাতে পুজোকে কেন্দ্র করে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, কোনও গুজব না ছড়ায় সেই জন্য কোনও ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছাড়াও পুরুষ এবং মহিলাদের প্রবেশ এবং প্রস্থানের জন্যও আলাদা পথ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে ব্যাগ, থলে বা পোটলা নিয়ে প্রবেশ না করতেও বলা হয়েছে। কোনও কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানানোর জন্য জরুরি টেলিফোন নম্বরও দিয়েছে পুলিশ
সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান
পূজার সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উদ্বেগ প্রকাশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ-এর
এ দিকে, পুজোর সময়ে যে সমস্ত নির্দেশ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ-এর নেতারা। পুলিশ ও ড্রোন এবং রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীদের কড়া পাহারায় দুর্গাপূজা আয়োজনকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তাঁদের দাবি, এর মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও বিশ্বের সামনে নিদারুণ প্রশ্নের মুখে পড়ছে। দুর্গাপূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্রকুমার নাথ। গত কয়েক মাসে একাধিক মন্দিরে হামলা, লুটপাট এবং বিগ্রহ ভাঙচুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করেই এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
