দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ছয় দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সৈকতশহর কক্সবাজারে। শহরের সাড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশের বেশি কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে শতভাগ কক্ষ বুকিংয়ের সম্ভাবনা দেখছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এতে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে পর্যটন খাতে চাঙাভাব ফেরার আশা করছেন তাঁরা।
শীতল সাগর আর সৈকতের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে আগেভাগেই কক্সবাজারে আসতে শুরু করেছেন পর্যটকেরা। সাধারণত নভেম্বর থেকে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। তবে মৌসুম শুরুর আগেই দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে সৈকতে বেড়েছে পর্যটকের উপস্থিতি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ভিড়ও বেড়েছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বর্তমানে অন্তত এক লাখ পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।
সৈকতের বিস্তীর্ণ বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি ঘোড়ায় চড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে ভ্রমণ করে বিনোদন উপভোগ করছেন পর্যটকেরা। কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন, কেউবা সৈকতের কিটকটে বসে উপভোগ করছেন সাগরের হিমেল বাতাস। অনেকে আবার ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সাগরপাড়।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে দুর্গাপূজার ছুটিতে। ছুটির শুরুতেই প্রত্যাশিত পর্যটক সমাগম হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে ভিড় আরও বাড়তে পারে। তবে ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য হয়রানি ও দুর্ভোগ এড়াতে হোটেল বুকিংসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সৈকতে দায়িত্ব পালনকারী লাইফগার্ড কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। পর্যটকদের সাগরে গোসলের সময় লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সী সেইফ লাইফগার্ড সংস্থা, কক্সবাজারের লাইফগার্ড কর্মী মো. শুক্কুর আলী জানান, ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়ায় সৈকতে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামা জরুরি।
এদিকে দুর্গাপূজার ছুটির পাশাপাশি আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরেও কক্সবাজার সৈকতে পূজারি ও পর্যটকদের ব্যাপক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এ উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এমএস/
