কালবেলা · সাধারণ
৪ দিনের ছুটি চান চট্টগ্রামের পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা
১৫/১০/২০২৬

দুর্গাপূজার আনন্দ যেন ছুটির স্বল্পতায় সীমাবদ্ধ না থাকে সেজন্য উৎসবের দিনগুলো পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে কাটানোর সুযোগ চান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এজন্য শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা শাখার নেতারা। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মন্দির নির্মাণের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন। তিনি জানান, এ বছর জেলার ১৬ উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার ২৭৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবের আয়োজনের পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে পরিষদ। প্রতিমা স্থাপন থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, ছবিযুক্ত পরিচয়পত্রধারী স্বেচ্ছাসেবক, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। নারী ও পুরুষের পৃথক যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় সতর্কতা অবলম্বনের কথাও রয়েছে নির্দেশনায়।
সংবাদ সম্মেলনে গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে তাতে কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীতের বাইরে অন্য গান-বাজনা পরিহার করে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা কমিটি।
উৎসবের পরিসর ও নিরাপত্তার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক দাবিগুলোও সামনে এনেছে সংগঠনটি।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমের উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ এবং দক্ষিণ কাট্টলীর বঙ্গোপসাগর উপকূলে প্রাচীন রানী রাসমণি বারুণী স্নানঘাট বা সমুদ্রতীর্থ সংস্কার ও উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নের জটিলতা নিরসনেরও আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।
পরিষদের নেতারা বলেন, ‘গত ১০ অক্টোবর চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে মহালয়া উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা করা হয়েছে। সবার অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। সেই উৎসবের আবহ যেন নির্বিঘ্ন থাকে, সেজন্য আয়োজকদের সতর্কতা ও প্রশাসনের সহযোগিতা জরুরি।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার ও অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী বক্তব্য দেন।
এ সময় সহসভাপতি সুনীল ঘোষ, বিজয় কৃষ্ণ বৈষ্ণব ও অলক মহাজন, যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত ও কল্লোল সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিমন মুহুরি, অর্থ সম্পাদক দীপক তালুকদার, সহ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অমিতাভ দাশ, নিউটন সরকার এবং হরিপদ চৌধুরী বাবুল উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗