অনলাইন ডেস্ক
পৌষের প্রথম দিকেই শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার প্রভাবে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে কুয়াশার কারণে মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৭টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সর্বশেষ আজ শনিবার সকালে যশোরে সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হালকা থেকে ঘন কুয়াশার প্রকোপ আরও অন্তত ৫ দিন অব্যাহত থাকবে। এর ফলে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে জানুয়ারির শুরু থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল সময়জুড়ে সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি ৭ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৬ ডিসেম্বর সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যা ছিল ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৬, গোপালগঞ্জে ৯ দশমিক ৮ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ১০ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায়।