ছেলের অভিযোগ, বিদেশ থেকে মায়ের উপার্জন করা টাকা না পেয়ে তার বাবা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
Published : 14 Oct 2026, 01:24 AM
Updated : 14 Oct 2026, 01:50 AM
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী দুলাল হাওলাদার।
পরকীয়ার সন্দেহে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রী শিরিন বেগমকে হত্যা করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
সোমবার দুলালের বিরুদ্ধে মামলা করেন তাদের ছেলে সিরাজ হাওলাদার। এ মামলায় মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আতিকুল ইসলাম বলেন, শিরিন জর্ডানে থাকতেন। দুই মাস আগে দেশে ফেরার পর স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে সন্দেহ করেন দুলাল। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে দুলাল শিরিনের চুল ধরে মেঝেতে আঘাত করেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বটি দিয়ে মরদেহ চার টুকরো করেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন দুলাল।
তবে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলে সিরাজ বলেন, বিদেশ থেকে উপার্জন করা টাকা না পেয়ে মাকে তার বাবা হত্যা করেছেন।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। মা জর্ডানে থেকে দুই ভাই-বোনের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতেন।
সিরাজ বলেন, “আমরা সবাই বাবার বিচার চাই। আমার বোনও তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। দাদাও বিচার চান। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক।”
পুলিশ জানায়, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি বাসায় চলতি মাসে ভাড়া ওঠেন দুলাল ও শিরিন। রোববার রাতের ঘটনার পর সোমবার ভোরে বাসার মালিকের ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। রান্নাঘরের মেঝেতে শিরিনের মাথা ও কোমরের নিচ থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।
শিরিনকে হত্যার আগে কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা, তা জানতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
