বান্দরবানের লামা উপজেলা থেকে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে লামা প্রেসক্লাব।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় লামা পৌরসভা সভাকক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লামা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ করিম এলএল.বি’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদ্য বিদায়ী ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মো. ওবাইদুল্লাহ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন লামা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আদহাম বিন ইব্রাহিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লামা সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি চৌধুরী মুহাম্মদ সুজন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বিদায়ী ইউএনওর কর্মকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “আমি লামায় ১ বছর ৮ মাস ১০ দিন কর্মরত ছিলাম। সরকার আমাকে জনগণের সেবা করার জন্য পাঠিয়েছেন। কর্মকালীন সময়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও পাহাড়ধসের মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে একাধিক দপ্তরের দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার দপ্তর সবসময় লামার সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কাজ করতে গিয়ে হয়তো ভুলত্রুটি হতে পারে। তবে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সমাজসেবীদের সহযোগিতায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সবার আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই একসঙ্গে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব সামলানো সম্ভব হয়েছে।”
লামাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিদায়ী ইউএনও বলেন, “লামার মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই ভালোবাসার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। আমি সারাজীবন লামাবাসীর মঙ্গল কামনা করব।”
অনুষ্ঠানে লামা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিদায়ী ইউএনওর কর্মকালীন দায়িত্ব পালন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদায়ী ইউএনওর মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
The post লামার বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায়ী সংবর্ধনা appeared first on ভোরের চেতনা.
