বিটিআরসি চেয়ারম্যান • ইন্টারনেটে কনটেন্টের মধ্যে বাংলা ভাষার অংশ মাত্র ০.১ শতাংশ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে ২১তম বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম-২০২৬।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.)।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের (বিআইজিএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সেমিনারে মোট ১২টি অধিবেশনে নীতিনির্ধারক, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা এবং শিক্ষার্থীসহ দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, শুরুতে বাংলাদেশে ভয়েস কলের কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা ছিল প্রধান লক্ষ্য। সময়ের পরিক্রমায় ভয়েস থেকে ডাটা পেরিয়ে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। এআই কার্যকর প্রয়োগের জন্য বিদ্যমান কর্মপ্রবাহ এবং পরিচালন কাঠামোয় পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
গত তিন দশকে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও সেই অবকাঠামো কার্যকরভাবে ব্যবহার করে মানুষকে অনলাইনে যুক্ত করা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভাষা রয়েছে যার মধ্যে বাংলা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। কিন্তু ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার উপস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, অনলাইন জগতে মোট কনটেন্টের মধ্যে বাংলা ভাষার অংশ প্রায় ০.১ শতাংশ। ইন্টারনেটে বাংলা ভাষার কনটেন্টের স্বল্পতা দূর করতে আরও বেশি মানসম্মত বাংলা কনটেন্ট, ডিজিটাল সেবা ও এআইভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিজেদের শিক্ষা, পেশা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলেই অর্থবহ সংযোগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

ফোরামে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খলিল উর রহমান (অব.) জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সংবেদনশীল তথ্য ও অত্যাবশ্যকীয় সেবা সুরক্ষায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশলের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা মোকাবিলা ও সমন্বয়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, আইনগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো, দক্ষ জনবল উন্নয়ন ও শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ডিপফেক ও স্বয়ংক্রিয় ফিশিংসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সাইবার হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সিঙ্গাপুর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের সিনিয়র অ্যাডভাইজার জয়সি চেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব তুলে ধরে অনলাইন নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এ ফোরামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং ডিজিটাল গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
বিজ্ঞাপন
সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও সহনশীল ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
ইএইচটি/এমআইএইচএস
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
