রাঙ্গামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় অবরোধকারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬ ও পুলিশের ২ সদস্য রয়েছেন। অপর আহত সদস্য কোন বাহিনীর, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া পর্যটকদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিবর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এলাকায় অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
পুলিশ সুপার বলেন, অবরোধকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা তাদের গাড়িবহর নিয়ে রওনা হন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাড়িবহরটি উজোবাজার চেকপোস্টে পৌঁছালে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পর্যটকদের নিরাপদে যেতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলার সময় অবরোধকারীরা পুলিশ ও দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে কয়েকজন আহত হন।
পরে অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে পর্যটকদের গাড়িবহর সামনে এগিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার দাবি করেন, ইউপিডিএফের একটি সশস্ত্র দল পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায় বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত গোলাগুলি চলার পর পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিন হাজার পর্যটক আটকে পড়েন
পুলিশ সুপার জানান, গত ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি কিছুটা শিথিল রাখা হয়েছিল। পরে ২১ অক্টোবর আবার অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হলে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে পর্যটকদের গাড়িবহরকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন, মো. জসীম উদ্দীনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব দাবিতে অবরোধ
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের প্রতিবাদ, সশস্ত্র ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্থানীয়দের দাবি, সাজেক প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের প্রভাবাধীন এলাকা এবং অবরোধকারী সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য জানা যায়নি।
