সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ ও নিয়মিত কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতা পাওয়ার পর ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। প্রতিবেদনটি লেখার সময় শনিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একটি বার্তা দেখা যাচ্ছিল।
বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ত্রুটি শনাক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সরকারও সতর্কতা জারি করেছে।
এর আগে ২০১৬ সালে বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই ঘটনায় হ্যাকাররা নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়। ঘটনার পর তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন।
