প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হচ্ছেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-র ছাত্রছাত্রীরা। এই ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।
ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘‘এই ছাত্রছাত্রীদের আক্রমণ করা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা কেবল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চেয়েছিল। তাদের শো-কজ নোটিশ ধরানো হচ্ছে। এমনকি তাদের হস্টেল খালি করতে বলা হচ্ছে।
বিজেপি নির্লজ্জভাবে এই ধরনের শক্তিকে মদত দিচ্ছে। এরা চাইছে হয় নিজেদের পক্ষে আনতে নয়তো ভয় দেখাতে।’’
শাহ বলেছেন, ‘‘আজ যারা এসআরএফটিআই’র ছাত্রছাত্রী, তারাই ভবিষ্যতে নিজেদের এবং দেশের আসল অবস্থাকে জানাবে।’’
উপাচার্যের পদ থেকে সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগের দাবি এবং ক্যাম্পাসে আরএসএস মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীবাহিনীর হামলার প্রতিবাদে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে হামলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হামলাবাজদের চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেনি পুলিশে। ওয়াইফাই বন্ধ। হস্টেল এবং ক্যান্টিন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিভাবকদের ই-মেইল পাঠিয়ে হস্টেল খালি করতে বলা হচ্ছে। না হলে শাস্তির মুখে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা পায়েল কাপাড়িয়া প্রতিবাদী ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে কাপাড়িয়া কান চলচ্চিতর উৎসবে পুরস্কার পান। তিনি বলেছেন, ‘‘সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে যা চললে তাতে আমি আতঙ্কিত। আরএসএস’র অনুগামী দুষ্কৃতীবাহিনী গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। নির্মমভাবে মারা হয় ছাত্রছাত্রীদের। ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। এই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।’’
আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত এই চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেছেন, ‘‘কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলায়, উলটে, বহিষ্কারের মুখে ফেলা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদেরই।’’ তাঁর আশঙ্কা, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা গুরুতর বিপদের মুখে রয়েছে।
গত বুধবার এসআরএফটিআই ছয় ছাত্রকে বহিষ্কারের পর হস্টেল খালি করার জন্য অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠায়। উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ তুলে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে হামলায় ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন এই ছাত্রছাত্রীরা।
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের পরিস্থিতিতে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি পাঠিয়েছেন সিপিআই(এম) সংসদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জন ব্রিটাস।
চিঠিতে ব্রিটাস বলেছেন, যেসব ছাত্রছাত্রী শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন তাঁদেরই এখন জবাবদিহি এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
উল্লেখ্য, ২৭ সেপ্টেম্বর যখন ক্যাম্পাসের ভেতরে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (এবিজিপি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের ওপর মৌখিক নির্যাতন ও শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়। ওই ঘটনার পর, ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা একটি মিছিল করে, যে সময় ছাত্রদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছোঁড়ে।
