ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার স্বামীর বিরুদ্ধে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মশিউর রহমান। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী। ভুক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলীর দেরিতে আসাকে কেন্দ্র করে মশিউর রহমান তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁর গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
আব্দুস সবুর জানান, ঘটনার দিন সকালে বিদ্যালয়ে হাজিরা দেওয়ার পর নিজের সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে তিনি আবার কর্মস্থলে ফেরেন। কিছুক্ষণ পর মশিউর রহমান বিদ্যালয়ে এসে জানতে চান, সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলী কেন সকাল সাড়ে ৯টায় বিদ্যালয়ে এসেছেন। জবাবে তিনি জানান, রাশেদ ঢাকায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন এবং ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোয় তাঁর আসতে আধা ঘণ্টা দেরি হয়েছে। এ কথা বলার পরই মশিউর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলী বলেন, তিনি ঢাকায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোয় বিদ্যালয়ে আসতে তাঁর আধা ঘণ্টা দেরি হয়েছিল। বিষয়টি তিনি প্রধান শিক্ষককে ফোনে জানিয়েছিলেন। তাঁর দেরিতে আসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। তিনি ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।রাশেদ আলী বলেন, “বিদ্যালয়ে বাইরের লোক এসে এভাবে মারামারি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
শিক্ষার্থীর অভিভাবক হামিদুর রহমানের অভিযোগ, মশিউর রহমান প্রায়ই বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাজে হস্তক্ষেপ করেন এবং নিজেকে প্রধান শিক্ষকের মতো উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে আগেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আব্দুস সবুর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানের উন্নতি হয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি মশিউর রহমানের বাড়ির কাছে হওয়ায় সেখানে তাঁর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের একটি ওয়াই-ফাই রাউটার খুলে নিয়ে যান মশিউর রহমান। এ ছাড়া এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করতে তিনি প্রধান শিক্ষককে চাপ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন বলে জানান আব্দুস সবুর। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত মশিউর রহমানের বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনসার আলী বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
The post ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ appeared first on ভোরের চেতনা.
