অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি সুপারট্যাংকারে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে একটি ট্যাংকারে থাকা এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে ইরানের বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক, কোনারাক, আবু মুসা ও বন্দর আব্বাস এলাকার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা দুটি ‘দুর্বৃত্ত সুপারট্যাংকার’ অচল করে দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাংকার দুটি নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ইরানি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে একটি ‘মাইনযুক্ত পথ’ দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। তবে হামলার সময় বা ট্যাংকারগুলোর নাম তারা প্রকাশ করেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় থাকা **আল-বাহিয়া** ও **মোম্বাসা** নামের দুটি ট্যাংকার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় **মোম্বাসা** ট্যাংকারে থাকা এক ভারতীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
