হিমবাহবিজ্ঞানীদের একটি দলের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রশস্ত হিমবাহটি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ‘আরও আগ্রাসীভাবে’ গলছে। এর অর্থ, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব বর্তমান হিসাবের দ্বিগুণ হতে পারে।
পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহকে ‘ডুমসডে গ্লেসিয়ার’ বা ‘প্রলয় হিমবাহ’ বলা হয়। কারণ, এটি ধসে পড়লে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কতটা বাড়বে, তা পূর্বাভাস দেয়ার ক্ষেত্রে এই বিশাল হিমবাহটি বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সমান আয়তনের এই হিমবাহটি পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম স্থানগুলোর একটিতে অবস্থিত। কয়েক দশক ধরে এটি পিছু হটছে। এর গলে যাওয়া বরফ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রায় ৪ শতাংশ অবদান রাখছে।
তবে হিমবাহটি পিছু হটার পেছনের প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত জটিল। ফলে ভবিষ্যতে এর অবস্থা কেমন হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।
তবে এ বিষয়ে জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, থোয়াইটস হিমবাহ ধসে পড়লে এর জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২ ফুটেরও বেশি বাড়তে পারে। এ ছাড়া, হিমবাহটি অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরকে আটকে রাখার ক্ষেত্রে কর্কের মতো কাজ করে। তাই শেষ পর্যন্ত এর পতনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মিয়ামি থেকে ম্যানিলা পর্যন্ত উপকূলীয় জনপদগুলো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরভাইন ক্যাম্পাস এবং নাসার (NASA) জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির হিমবাহবিজ্ঞানীরা বরফস্তরের একটি নতুন মডেল তৈরি করেছেন। তাদের মতে, এই মডেলটি বরফের এই বিশাল স্তরের নিচে কী ঘটছে, তা আরও ভালোভাবে তুলে ধরে।
থোয়াইটস হিমবাহ দ্রুত পিছু হটার পেছনে এর ‘গ্রাউন্ডিং লাইন’-এর প্রক্রিয়াগুলো দায়ী। গ্রাউন্ডিং লাইন হলো সেই স্থান, যেখানে হিমবাহের বরফ সমুদ্রতল থেকে ওপরে উঠে সমুদ্রে ভাসতে শুরু করে এবং বরফের ভাসমান স্তর তৈরি করে।
